খনি দুর্নীতির পর্দাফাঁস! অবৈধ আকরিক বিক্রির ৫ হাজার কোটি টাকার পাচারচক্রের হদিস ইডির, বাজেয়াপ্ত বিশাল সম্পত্তি

গোয়ায় অবৈধ লৌহ আকরিক উত্তোলনের এক চাঞ্চল্যকর আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার নির্দেশে সালগাঁওকর গ্রুপ এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর মোট ১,০২৩.৮৫ কোটি টাকার সম্পত্তি সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই বাজেয়াপ্তি তালিকার মধ্যে সিঙ্গাপুরে অবস্থিত ৪৭১ কোটি টাকার বিলাসবহুল সম্পত্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা এই আর্থিক অপরাধের আন্তর্জাতিক যোগসূত্রকে স্পষ্ট করে দিয়েছে।

গত রবিবার ইডি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর কঠোর ধারায় ১৯ জুন এই বাজেয়াপ্তি আদেশ জারি করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সালগাঁওকর গ্রুপ এবং এভিএস গ্রুপ দীর্ঘ সময় ধরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে বেআইনিভাবে খনি থেকে লোহা আকরিক উত্তোলন, বিক্রয় এবং বিদেশে পাচার করে আসছিল। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট বলা ছিল যে, ২০০৭ সালের নভেম্বরের পর গোয়ায় সব ধরনের খনি খনন অবৈধ, কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া হয়।

ইডি-র নথিপত্র অনুযায়ী, এই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির বহর বিশাল। এর মধ্যে রয়েছে ভারতে অবস্থিত ৯৯টি রিয়েল এস্টেট সম্পত্তি (যার মূল্য ৪৫৯.১০ কোটি টাকা), সিঙ্গাপুরে অবস্থিত ৩১টি স্থাবর সম্পত্তি (মূল্য ৪৭১.৩২ কোটি টাকা) এবং বিভিন্ন ভারতীয় কোম্পানিতে থাকা ৯৩.৪২ কোটি টাকার ইক্যুইটি শেয়ার। প্রয়াত অনিল সালগাঁওকরের এস্টেট এবং তাদের একাধিক মাইনিং ইন্ডাস্ট্রি ও পোর্ট প্রকল্পের নামে থাকা এই বিপুল সম্পত্তি এখন সরকারি নিয়ন্ত্রণে।

তদন্তে উঠে এসেছে এক জটিল পাচারচক্রের চিত্র। ইডি-র অভিযোগ, ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে এভিএস গ্রুপ দশটি খনির ইজারা পরিচালনা করে অবৈধ পন্থায় ২,৪৯২.৯৫ কোটি টাকার মুনাফা অর্জন করেছিল। এই আকরিক অত্যন্ত কম দামে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের বেশ কিছু শেল কোম্পানিতে রপ্তানি করা হতো, যেগুলো কেবল কাগজে-কলমেই অস্তিত্ব বজায় রাখত। সেখান থেকে পুনরায় চীনে চড়া দামে তা বিক্রি করে প্রায় ২,৭৪৪.৮৯ কোটি টাকার বাড়তি মুনাফা করা হতো। সব মিলিয়ে এই দুর্নীতির আর্থিক ব্যাপ্তি প্রায় ৫,২৩৭.৮৪ কোটি টাকা (প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার)।

পাচার করা এই বিপুল অর্থ ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক নানা পক্ষের মাধ্যমে কৌশলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই অর্থই পরবর্তীতে বিদেশে সম্পত্তি ক্রয়ে এবং ভারতে শেয়ার মূলধন হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়। গোয়া পুলিশের সিআইডি-র দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই তদন্ত এখন এমন এক মোড় নিল, যা গোয়ার খনি মাফিয়াদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।