তিরিশের কোঠায় ট্র্যাজিক পরিণতি! কোকেন বিতর্কে চার বছরের নির্বাসনের খাঁড়া ঝুলছে বিতর্কিত তারকার মাথার উপর!

বয়স যখন ৩০ পেরোবে, টেনিস কোর্টে আর নামবেন না—একসময় এমনটাই দম্ভভরে ঘোষণা করেছিলেন নিক কিরিয়স। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! ৩১ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে অজি তারকা। দীর্ঘ চোট সারিয়ে যখন তিনি কোর্টে কামব্যাকের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ডোপ টেস্টে চূড়ান্ত ব্যর্থতার খবর সামনে এল। চলতি বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত মায়োর্কা ওপেনের সময় তাঁর শরীর থেকে কোকেনের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার হয়েছে। যার জেরে তাঁর মাথার উপর এখন চার বছরের দীর্ঘ নির্বাসনের খাঁড়া ঝুলছে। বিশ্ব টেনিস মহলে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা—তবে কি এখানেই বর্ণময় অথচ বিতর্কিত এই তারকার টেনিস জীবনের স্থায়ী যবনিকাপতন ঘটতে চলেছে?

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভুল অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন কিরিয়স। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই অপরাধের পুরো দায়ভার তাঁর নিজেরই। ২০২৩ সালের শুরু থেকে শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি কার্যত খেলার বাইরে ছিলেন এবং গত সাড়ে তিন বছরে মাত্র আটটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে জয় পেয়েছেন মাত্র দুটিতে। শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের অন্তিম লগ্নে এসে এমন কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করা তাঁর কল্পনার থেকেও অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক। তবে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তাঁর সামনে একটিমাত্র আশার আলো খোলা রয়েছে। যদি তিনি যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারেন যে প্রতিযোগিতার বাইরে বা খেলার সঙ্গে সম্পর্কহীন সময়ে তিনি এই মাদক সেবন করেছিলেন, তবে শাস্তির মেয়াদ কমে মাত্র তিন মাসে নেমে আসতে পারে।

বিতর্ক ও সাফল্যের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ ছিল কিরিয়সের ক্যারিয়ার। ২০১৪ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টে তৎকালীন অপ্রতিরোধ্য রাফায়েল নাদালকে পরাজিত করে বিশ্বজুড়ে রাতারাতি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ আট বছর পর ২০২২ সালে উইম্বলডনের ফাইনালে উঠেও তিনি নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। তাঁর অনবদ্য শট-মেকিং এবং ক্ষিপ্রতা সবসময়ই দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। কিন্তু মেজাজ হারানো এবং নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়া তাঁর ক্যারিয়ারের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ছিল। ২০১৫ সালে মন্ট্রিলে প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করায় তাঁকে ২৮ দিন নির্বাসিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ইতালিয়ান ওপেনে মেজাজ হারিয়ে কোর্টেই চেয়ার ছুড়ে মারা এবং আম্পায়ারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার মতো ঘটনায় তাঁকে ১ লক্ষ ১৩ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হয়।

নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ডকু-সিরিজ ‘ব্রেক পয়েন্ট’-এ নিজের মানসিক অবসাদ ও অন্ধকার দিকের কথা খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন এই টেনিস তারকা। তিনি স্বীকার করেছিলেন যে ২০১৯ সালের দিকে তিনি অতিরিক্ত মদ্যপান ও মাদকের ভয়াবহ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। শৈশবে চেহারার কারণে বুলিংয়ের শিকার হওয়ার মানসিক ক্ষত তাঁকে দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। এমনকি কোর্টে নামার আগে মানসিকভাবে শান্ত হতে তাঁকে অতিরিক্ত মদ্যপান করতে হতো, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। বর্তমানে বিশ্ব টেনিস র‍্যাঙ্কিংয়ে ৯১৯ নম্বরে নেমে যাওয়া কিরিয়স নিজেকে মানসিকভাবে গুছিয়ে নিতে আগামী ২৮ দিন জনসমক্ষ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ডোপিং ব্যবস্থার কনিষ্ঠ সমালোচক হিসেবে পরিচিত কিরিয়স সম্প্রতি ইয়ানিক সিনারের শাস্তির তীব্র সমালোচনা করলেও, আজ তাঁর নিজেরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ডোপিং নিয়মের কঠোর রায়ের ওপর।