নিরাপত্তা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক নাটক! মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার চাঁচাছোলা আক্রমণ, মমতাকে বিঁধলেন তীব্র ভাষায়!

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন উত্তাল পরিস্থিতি। এই নিরাপত্তা বিতর্ককে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী শিবিরের তরজা। আর এই বিতর্কের আগুন আরও উসকে দিয়েছেন বিজেপি নেত্রী তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, বাইরের কোনো হুমকি নয়, বরং নিজের পরিবারের সদস্যদের কাছেই সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত বুধবার রাত থেকেই এই নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। জানা গিয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা (PSO) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে থাকা পুলিশ কিয়স্ক বর্তমানে কার্যত ফাঁকা অবস্থায় পড়ে আছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন জানিয়েছেন, বুধবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু অচেনা অফিসারকে নিরাপত্তার দায়িত্বে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের পরিচয় নিয়ে ধন্দ থাকায় এবং দীর্ঘদিনের পরিচিত রক্ষীদের বদলে তাঁদের গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা গ্রহণ করবেন নাকি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বলয়ের অধীনে যাবেন, সেটি তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই যা শুনে এসেছি, তাতে এটি স্পষ্ট যে বাইরের চেয়ে তাঁর পরিবারের লোকেদের থেকেই তাঁর ভয় বেশি। নিজের পরিবারের অন্দরেই যদি তিনি নিরাপদ বোধ না করেন, তবে তাঁকে বাইরের নিরাপত্তারক্ষীরা কতটা সুরক্ষা দেবেন?”
নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে মমতার ১৫ বছরের শাসনকালকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন অগ্নিমিত্রা। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “গত ১৫ বছরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাংলার মানুষকে এক অনিশ্চিত ও বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। নিজে যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন বিশাল কনভয়, বাড়ির সামনে কয়েকস্তরীয় পুলিশের ব্যারিকেড—নিজের সুরক্ষায় তিনি কোনো খামতি রাখেননি। আর এখন তিনি নাটক করছেন যে তিনি নিরাপত্তা চান না! বাংলার মানুষ সবটা লক্ষ্য করছেন। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে বাংলার সাধারণ মানুষকে তিনি পাহাড়ের খাদের ধারে ঠেলে দিয়েছিলেন, এখন কেবল ধাক্কা দেওয়াটাই বাকি ছিল।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নিরাপত্তা প্রত্যাহার ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক বয়ান আসন্ন দিনগুলোতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। একদিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের এমন আক্রমণাত্মক অবস্থানের ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিয়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর ধোঁয়াশা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে এই টানাপড়েন বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।