নিরাপত্তা নিয়ে নবান্নের নির্দেশ অমান্য! মমতার বাড়িতে ফিরলেন নতুন পিএসও, ঘটল বেনজির ঘটনা

বুধবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী (পিএসও) পরিবর্তনের পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্নের তরফে নিযুক্ত নতুন দু’জন পিএসও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছালে তাঁদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এটি রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত বিরল ও বেনজির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, দুপুর ১টা ২৫ মিনিট নাগাদ নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত পিএসও-রা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছান। কিন্তু ভেতরে ঢোকার আগেই তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। জানানো হয়, এটি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ—তিনি নতুন নিরাপত্তারক্ষীদের প্রবেশের অনুমতি দেননি। এই বার্তা পাওয়ার পর পিএসও-রা বাধ্য হয়েই ফিরে যান।

এই ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার রাতে। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট ও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকে নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে। গত ২০ বছর ধরে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশ্বস্ত পিএসও স্বরূপ গোস্বামী এবং কুসুম কুমার দ্বিবেদীকে সরিয়ে দেওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। ডেরেকের অভিযোগের পাল্টা জবাবে নবান্ন জানায়, রোটেশন বা ঘূর্ণায়ন পদ্ধতির নিয়ম মেনেই এই রদবদল করা হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জেড প্লাস (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে এবং নিয়মমাফিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক রক্ষী মোতায়েন রয়েছে।

ইতিমধ্যে, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বার্তা পাঠিয়ে অনুরোধ করেছিলেন, মানবিক ও সৌজন্যের খাতিরে যেন পুরনো পিএসও-দের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়। সূত্রের দাবি, কুণাল ঘোষের এই বার্তার প্রেক্ষিতে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল এবং আজকের বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনার কথা ছিল। তবে তৃণমূল সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কাউকে অনুরোধ করতে বলেননি, তিনি কেবল তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।

এই পরিস্থিতি এখন নবান্ন ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি করেছে। একদিকে প্রশাসনিক নিয়ম ও রোটেশন পলিসি, অন্যদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দের নিরাপত্তা রক্ষীদের নিয়ে জেদ—এই দ্বন্দ্বে কার্যত উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। পিএসও-দের ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনাটি নিরাপত্তাজনিত প্রটোকলকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রশাসনের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কি সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করছেন? সব মিলিয়ে, এই নাটকীয় পরিস্থিতির জল কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।