“গ্রেফতারি থেকে ‘ডিম-স্নান’!”- তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম বর্ষণ

রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই ফের চর্চায় ‘ডিম থেরাপি’। এবার রানিগঞ্জে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর স্থানীয় তৃণমূল যুবনেতা সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে একের পর এক কাঁচা ডিম ছুড়লেন বিজেপি কর্মীরা। পুলিশের ভ্যান পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় ‘ডিমে স্নান’ সেরে ফেললেন ওই নেতা।

সোমবার রাতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের রানিগঞ্জ থানার পুলিশ একটি পুরনো মামলায় সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, ২০২৪ সালে আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে বিজেপির একটি কর্মসূচিতে তৃণমূল সমর্থকরা হামলা চালায়। সেই ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্যতম অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

বিজেপি নেতা রবি কেশরীর অভিযোগ, সৌমিত্রের নেতৃত্বেই বিজেপি কর্মীদের ওপর প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া রানিগঞ্জ গার্লস কলেজে হিংসার ঘটনা, অবৈধ বালি-কয়লা কারবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে তুলেছে বিজেপি। তাদের দাবি, এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাঁদের হাতে রয়েছে।

গ্রেফতারি ও তৃণমূল নেতার প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার সকালে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার সময় অভিযুক্তকে বাড়ি থেকে বের করা হলে বিজেপি কর্মীরা ডিম ছুড়ে বিক্ষোভ দেখান। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আইন ও বিচারব্যবস্থার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই আমাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।” তাঁর মতে, ছাত্র রাজনীতির সময়ের কিছু ছোটখাটো বিতর্ক থাকলেও, বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক সংঘাত
গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসকদলের নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা নতুন নয়। কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের তৃণমূল নেতৃত্বকে ইদানীং এই ধরণের ‘ডিম-থেরাপি’-র সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ। অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির পরিকল্পিত চক্রান্ত ছাড়া এই ধরণের ঘটনা সম্ভব নয়।

বর্তমানে অভিযুক্ত তৃণমূল যুবনেতা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। মামলার তদন্ত চলছে এবং আগামী দিনে এই ঘটনায় আরও কার কার নাম জড়াতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

সম্পাদকীয় নোট: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেনস্থা করার জন্য কি ‘ডিম ছোঁড়া’-কে রাজনৈতিক প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে মেনে নেওয়া যায়? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy