আগামী ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে এক ঐতিহাসিক দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার। এই বিশেষ দিনে রাজ্যে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি তারকেশ্বরে উপস্থিত থাকবেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবসকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। এই উপলক্ষে রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দিনটি সাড়ম্বরে পালনের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর।
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুধু ২০ জুন নয়, বরং ওই দিন থেকে পরবর্তী ২ সপ্তাহ ধরে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সেমিনার আয়োজিত হবে। এই সেমিনারগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো পড়ুয়াদের পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করা। ১৯৪৭ সালে যখন আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গ গঠনের জন্য ভোটাভুটি হয়েছিল, সেই বিশেষ দিনটিকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তারকেশ্বরের সম্মেলন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন, তাই সেই ঐতিহাসিক স্থানকেই প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে গঠিত হয়েছিল, সেই লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের অনেকেরই অজানা। তাই সেমিনার ও আলোচনার মাধ্যমে পড়ুয়াদের কাছে সেই প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হবে।”
এই ঘোষণার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বড় রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, পূর্বতন সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতিগুলোতে মনোনীত ব্যক্তিদের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। মন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলোর পরিচালন সমিতি ইতিমধ্যেই ভেঙে দিয়েছেন। কিন্তু এখনও কাউন্সিলের ভেতরে আগের সরকারের আমলে মনোনীত অনেক ব্যক্তি রয়ে গিয়েছেন। তাদের কাছে আবেদন, বিবেকের তাড়নায় দ্রুত পদ ছেড়ে দিন।”
উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মসমিতিগুলোতে দ্রুত নতুন ও যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর এই কড়া বার্তা এবং পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের ঐতিহাসিক রূপরেখা রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে।




