এক্স-রেতে ধরা পড়ছিল না! কীভাবে এক জটিল অস্ত্রোপচারে রোগীর প্রাণ বাঁচালেন ডাক্তাররা?

সামান্য অসতর্কতা যে কত বড় বিপদের কারণ হতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ মধ্যপ্রদেশের সাগরের বুন্দেলখণ্ড মেডিকেল কলেজের (BMC) এই ঘটনা। ঘুমের মধ্যে নকল দাঁত গলায় আটকে যাওয়ায় মৃত্যুঝুঁকিতে পড়া ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে দক্ষ চিকিৎসায় সুস্থ করে তুললেন চিকিৎসকেরা।

কী ঘটেছিল সেই রাতে? দামোহের বাসিন্দা রামদাস নামে এক ব্যক্তি রাতে ঘুমানোর আগে তাঁর নকল দাঁতের পাটি খুলতে ভুলে গিয়েছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎই তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। দমবন্ধ হয়ে আসার মতো পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত বুন্দেলখণ্ড মেডিকেল কলেজের নাক-কান-গলা (ENT) বিভাগে নিয়ে আসেন।

চিকিৎসকদের চ্যালেঞ্জ হাসপাতালে ভর্তির পর রোগীর অবস্থা ছিল সংকটজনক। সাধারণত এ ধরনের সমস্যায় এক্স-রে করে গলার ভেতরের বস্তুর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এক্স-রে রিপোর্টে কিছুই ধরা পড়ছিল না। পরে জানা যায়, দাঁতগুলো প্লাস্টিকের তৈরি হওয়ায় এক্স-রে-তে তা দেখা যাচ্ছিল না। এতে চিকিৎসকদের জন্য রোগীর প্রাণ বাঁচানো এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

সফল অস্ত্রোপচার পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নাক-কান-গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ নীতু বাজাজ ‘ইসোফ্যাগোস্কোপি’ (Esophagoscopy) পদ্ধতির সাহায্য নেন। অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের ডাক্তার সর্বেশ জৈন এবং ডাক্তার দীপক গুপ্তের সহায়তায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গলার শ্বাসনালী ও খাদ্যনালীর মুখে আটকে থাকা তিনটি নকল দাঁত সফলভাবে বের করে আনা হয়। বিএমসি-র মিডিয়া ইনচার্জ ডঃ সৌরভ জৈন জানিয়েছেন, আর সামান্য দেরি হলে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারত।

সতর্কবার্তায় ডাক্তাররা বর্তমানে রোগী সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত এবং তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ডাক্তাররা বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। যাঁরা নকল দাঁত বা ক্লিপ-অন দাঁত ব্যবহার করেন, তাঁদের অবশ্যই ঘুমানোর আগে দাঁত খুলে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামান্য অবহেলাও যে বড় প্রাণঘাতী বিপদের কারণ হতে পারে, এই ঘটনা তার একটি বড় সতর্কবার্তা।