ঠিক এক বছর আগে আমদাবাদের আকাশে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার সেই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার ক্ষত এখনও দগদগে। গত এক দশকের বিশ্ব ইতিহাসে অন্যতম রক্তক্ষয়ী এই বিপর্যয়ে ২৬০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, দুর্ঘটনার এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করার কথা থাকলেও, এই স্পর্শকাতর ঘটনার তদন্ত শেষ করতে তদন্তকারীদের আরও অন্তত দুই মাস সময় প্রয়োজন। ভারতের ‘এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ (AAIB), অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এবং আমেরিকার NTSB-র যৌথ তদন্তে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, চূড়ান্ত রিপোর্টে বিলম্বের মূল কারণ হলো বিমানটির ইঞ্জিনের চুলচেরা বিশ্লেষণ। গত এপ্রিল মাসে ইঞ্জিনের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বিশেষ দল ফ্রান্সেও গিয়েছিল। তবে তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং কোনো তথ্য গোপন করা হবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী রিপোর্টে উঠে এসেছিল, উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানের ফুয়েল সুইচ আচমকা ‘রান’ মোড থেকে ‘কাট অফ’ মোডে চলে গিয়েছিল, যার ফলে ইঞ্জিন অকেজো হয়ে পড়ে। এটি যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি পাইলটের ভুল—তা নিয়ে এখনও রহস্য রয়ে গেছে।
এদিকে, এই ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের বহু পরিবার এয়ার ইন্ডিয়ার দেওয়া ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকার করেছেন। তাঁদের সাফ দাবি, চূড়ান্ত রিপোর্ট না দেখে তাঁরা কোনো আইনি পদক্ষেপ বা আপস করতে রাজি নন। যদি সংস্থার গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে তাঁরা আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার পথে হাঁটতে পারেন। বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিপূরণ নেওয়ার কোনো সময়সীমা নেই এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ওপর কোনো চাপও সৃষ্টি করা হচ্ছে না। চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের অপেক্ষায় এখন গোটা দেশ।





