২০২৪-এর পর ২০২৬—সময় গড়িয়েছে, কিন্তু মোদী-শাহের গড়ে গেরুয়া ঝড়ের দাপট কমেনি, বরং আরও এক ঐতিহাসিক রেকর্ডের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। আগামী ১৮ জুন গুজরাতের চারটি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন। আর বর্তমান বিধানসভার সমীকরণ যা বলছে, তাতে ১৮২ আসনের গুজরাত বিধানসভায় ১৬১ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে শাসক দল বিজেপি যে চারটি আসনেই জয়ী হতে চলেছে, তা কার্যত নিশ্চিত।
এই নির্বাচন গুজরাতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড়সড় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে। গুজরাতের সংসদীয় ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথমবার রাজ্যসভায় এই রাজ্য থেকে কংগ্রেসের কোনো প্রতিনিধি বা সাংসদ থাকছে না। সম্পূর্ণ ‘কংগ্রেস-মুক্ত’ হতে চলেছে গুজরাতের রাজ্যসভার আসন। বর্তমানে গুজরাতের মোট ১১টি রাজ্যসভা আসনের মধ্যে ১০টিই বিজেপির দখলে। বাকি একটি আসনে রয়েছেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা শক্তিসিংহ গোহিল। আগামী ২১ জুন শক্তিসিংহ গোহিলসহ আরও তিন বিজেপির সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সেই শূন্য হওয়া ৪টি আসনেই এই ভোট।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, গুজরাতে একজন রাজ্যসভা প্রার্থীকে জিততে প্রয়োজন অন্তত ৪৬ জন বিধায়কের সমর্থন। বর্তমানে বিধানসভায় কংগ্রেসের শক্তি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১২ জন বিধায়কে, যা রাজ্যের ইতিহাসে তাদের সর্বনিম্ন। আম আদমি পার্টির (AAP) রয়েছে ৫ জন ও সমাজবাদী পার্টির ১ জন বিধায়ক। কংগ্রেস বা আপ-এর পক্ষে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৪৬টি ভোট জোগাড় করা অসম্ভব, এমনকি প্রার্থী দেওয়ার মতো ন্যূনতম ১০ জন প্রস্তাবকও তাদের কাছে নেই। ফলে কংগ্রেস এই ভোটে আদৌ প্রার্থী দেবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে।
ইতিমধ্যেই বিজেপি তাদের চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে—রাজু শুক্লা, মানসিন পারমার, মুকেশ রাথভা এবং জিতেন্দ্র কাঞ্জারিয়া। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, “আমরা ৪টি আসনেই জিতছি। তবে সবথেকে বড় বিষয় হলো, এই প্রথম রাজ্যসভায় গুজরাত থেকে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা শূন্য হতে চলেছে।”
কংগ্রেস অবশ্য তাদের দুর্বলতার কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র মনীশ দোশী বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত বিধায়ক সংখ্যা নেই—এটা বাস্তব। তবে প্রার্থী দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।” তবে তিনি দাবি করেছেন, সাংসদ সংখ্যা বড় কথা নয়, বরং গুজরাতের মানুষের জন্য কে কতটা সরব থাকলেন, সেটাই আসল। কিন্তু ক্ষোভ বা রাজনৈতিক যুক্তির ঊর্ধ্বে গিয়ে ভোটের পাটিগণিত এখন যেদিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে ১৮ জুনের পর রাজ্যসভায় মোদী-শাহের দলের আধিপত্য আরও নিশ্চিত হতে চলেছে। গুজরাতের রাজ্যসভার ইতিহাসে এটি হতে চলেছে এক নজিরবিহীন অধ্যায়।





