অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন? ফর্ম পূরণের নতুন আপডেট দিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেতে এখন আবেদন প্রক্রিয়া তুঙ্গে। ৩ জুলাই থেকে রাজ্যের যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ডিবিটি (DBT)-এর মাধ্যমে ৩০০০ টাকা করে পাঠানো শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আগ্রহী মহিলারা এখন অনলাইনেই আবেদন করতে পারবেন। প্রকল্পের সরকারি পোর্টাল (https://socialregistry.wb.gov.in/) ইতিমধ্যেই সক্রিয় করা হয়েছে। অনলাইন ছাড়াও অফলাইনেও আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

তবে আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে একগুচ্ছ বিভ্রান্তি দূর করতে বড়সড় আপডেট দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বহু পরিবারেই প্রশ্ন ছিল—একটি পরিবারে যদি একাধিক যোগ্য মহিলা সদস্য থাকেন, তবে কি সবাইকে আলাদা আলাদা ফর্ম পূরণ করতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাড়ির প্রতিটি মহিলার জন্য আলাদা ফর্মের প্রয়োজন নেই।

মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “একটা পরিবারে একটিই ফর্ম দেওয়া হবে। আলাদা করে প্রত্যেক মহিলার জন্য চারটি বা পাঁচটি ফর্ম পূরণ করার প্রয়োজন নেই। ফর্মটির ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে একটি ফর্মেই পরিবারের একাধিক সদস্যের তথ্য দেওয়া যায়।” তিনি আরও বলেন, “একটি পরিবারের শাশুড়ি, বউমা, মেয়ে বা ননদ—সবাই ওই একটি ফর্মেই আবেদন করতে পারবেন। সেই ফর্মের মধ্যেই প্রত্যেকের ব্যক্তিগত তথ্য, আধার নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ যোগ করার সুনির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে।”

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, ‘পরিবার’ বলতে এমন একদল ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যারা সাধারণত একই ছাদের নিচে বসবাস করেন এবং একই রান্নাঘর থেকে আহার গ্রহণ করেন। সুতরাং, একই পরিবারের একাধিক যোগ্য মহিলা সদস্য একটি মাত্র ফর্মেই আবেদন করবেন। প্রতিটি মহিলার তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশনের পর, সফল হলে প্রত্যেকের নিজ নিজ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা জমা পড়ে যাবে।

আগামী তিন মাস ধরে এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। সরকারি পোর্টালে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে মহিলারা দ্রুত তাদের আবেদন জমা দিতে পারেন। যারা ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় স্বাচ্ছন্দ্য নন, তারা স্থানীয় প্রশাসন বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে অফলাইন ফর্ম সংগ্রহ করে পূরণ করতে পারবেন। ভুল এড়াতে এবং দ্রুত পরিষেবা পেতে সঠিকভাবে প্রয়োজনীয় নথি (যেমন ব্যাঙ্ক পাসবুক, আধার কার্ড ইত্যাদি) সংযুক্ত করে ফর্ম জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।