সুখেন্দুর পর সুস্মিতা! তৃণমূলের ‘ক্যাপ্টেন’ মমতা কি রাশ হারাচ্ছেন? দলত্যাগের হিড়িকে ব্যাকফুটে ঘাসফুল

লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন যেন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ৬১ জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ নিয়েছেন। সেই অস্থিরতার রেশ না কাটতেই এবার সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের ওপর নেমে এল বড় আঘাত। প্রবীণ নেতা সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগের মাত্র সাত দিনের মাথায়, বুধবার রাজ্যসভার সদস্যপদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন হেভিওয়েট নেত্রী সুস্মিতা দেব।

সুস্মিতা দেবের এই পদত্যাগ রাজ্যসভায় তৃণমূলের শক্তি কমিয়ে ১১-তে নামিয়ে আনল। তবে দলত্যাগের চেয়েও বড় চমক অপেক্ষা করছিল দিল্লিতে। ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার ঠিক পরেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সুস্মিতার রুদ্ধদ্বার বৈঠক জাতীয় রাজনীতির অন্দরমহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুব শীঘ্রই বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিতে পারেন তিনি।

তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের এই বিস্ফোরণ যে গভীর, তা গত সপ্তাহে সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগপত্র থেকেই স্পষ্ট হয়েছিল। টানা ১৩ বছর রাজ্যসভার চিফ হুইপ থাকা এই প্রবীণ নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো এক চিঠিতে তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, “বাংলার মানুষ তৃণমূলের লাগামহীন দুর্নীতি, নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের নৈরাজ্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে।” একই সঙ্গে তিনি বিজেপির জয় এবং নতুন সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রসঙ্গত, প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা দেব ২০২১ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের সংগঠন বিস্তারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং রাজ্যসভার টিকিট দিয়েছিলেন। কিন্তু সুস্মিতার এই দলত্যাগ এবং হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের ছবি প্রমাণ করে যে, উত্তর-পূর্ব ভারতে তৃণমূলের বিস্তারের স্বপ্ন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণণের কাছে সুস্মিতা তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করার আর্জি জানিয়েছেন। বিধায়কদের বিদ্রোহের পর দুই শীর্ষস্থানীয় রাজ্যসভা সাংসদের এই দলত্যাগ তৃণমূলের অন্দরে গভীর ফাটলকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য এখন কি ইতিহাসের পাতায়? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy