১ কোটি টাকার তোলাবাজি! সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারিতে রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল আলোড়

রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় ফের এক বিস্ফোরণমূলক ঘটনা। ১ কোটি টাকা তোলাবাজির অভিযোগে বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মধুসূদন চক্রবর্তী নামে এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে যখন সব্যসাচী দত্ত রাজারহাট-নিউ টাউনের বিধায়ক ছিলেন, সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে এই তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতারির পর অবশ্য সব্যসাচী দত্ত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ বলে দাবি করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগের হলেও, সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর কথোপকথনের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ফোন কল রেকর্ড প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও ওই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি নিউজ ১৮ বাংলা। রেকর্ডিংটিতে শোনা যাচ্ছে, সব্যসাচী দত্ত বারবার নির্দিষ্ট এক তারিখের মধ্যে ১ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীকে চাপ দিচ্ছেন। এমনকি, টাকা না পেলে তিনি ‘বেজ্জতি’ বা বিপদে পড়বেন বলেও ওই ব্যবসায়ীকে সতর্ক করছেন।

অডিওতে শোনা যায়, সব্যসাচী দত্ত বলছেন, “১২ তারিখটা যেন মিস না হয়, তাহলে আমি খুব বেকায়দায় পড়ে যাব।” উত্তরে ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তী কাতর কণ্ঠে বলছেন, “আমি সোনা বিক্রি করে হলেও আপনার টাকা দিয়ে দেব। ১ কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছি।” কথোপকথনের পরবর্তী অংশে সব্যসাচী দত্তকে বলতে শোনা যায়, নির্বাচনের আবহে টাকা ট্রান্সফার করা নিয়ে তিনি বেশ চিন্তিত। তিনি বলছেন, “আমি সোনাওয়ালাদের দিয়ে ট্রান্সফার করিয়ে দিয়েছি, দেখবেন যেন ডিলে না হয়।”

কিন্তু ঘটনাপ্রবাহে নাটকীয় মোড় আসে যখন নির্ধারিত দিনের শেষেও টাকা দিতে না পারায় ব্যবসায়ী কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, তাঁর পক্ষে ১ কোটি টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা যায়, “আমি আপনার পায়ের তলায় থাকতে পারি দাদা, আমার কাছে ১ কোটি টাকা নেই।” এরপর সব্যসাচী দত্তকে সংক্ষিপ্তভাবে বলতে শোনা যায়, “ছেড়ে দিন…”

এই অডিও ক্লিপগুলি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী শিবির তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে শাসকদলকে। সব্যসাচী দত্তের মতো একজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজির এই অভিযোগ এবং অডিওর ভাইরাল কথোপকথন রাজনৈতিক মহলে প্রবল অস্বস্তি তৈরি করেছে। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। সব্যসাচী দত্তের দাবি, ষড়যন্ত্র করে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। কিন্তু অডিওর প্রতিটি লাইন এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের অন্দরেও তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, সব দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy