বাংলার মসনদে বসার পর থেকেই একের পর এক রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে চমক দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে ঢেলে সাজাতে এবং সরকারি কাজের গতি বাড়াতে আজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, আজই শুভেন্দু অধিকারী তাঁর মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বন্টন সম্পন্ন করতে চলেছেন। ১ জুন যে সমস্ত বিধায়করা মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন, আজ তাঁদের নতুন দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু দফতর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এশিয়ানেট নিউজ বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য বন্টন তালিকা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। সূত্রের খবর, শিল্পমন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব পেতে পারেন অভিজ্ঞ নেতা তাপস রায়। উচ্চশিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব সামলাতে পারেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অন্যদিকে শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে দীপক বর্মনকে। পরিবহণ দফতরের চাকা ঘোরানোর দায়িত্ব পেতে পারেন অর্জুন সিং এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন দিশা দেখাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন শারদ্বত মুখার্জি।
মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। পর্যটন মন্ত্রী হিসেবে উঠে আসছে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের নাম। রাজ্যের অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল কাণ্ডারি বা অর্থমন্ত্রী হিসেবে স্বপন দাশগুপ্তের নাম প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্ডাকে। শ্রমমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন অজয় পোদ্দার এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা দমকল দফতরের হাল ধরার সম্ভাবনা রয়েছে উমেশ রাইয়ের। পাশাপাশি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের দায়িত্ব অর্পিত হতে পারে মনোজ ওরাওয়ের ওপর।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বেশ কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের হাতেই রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ভূমি ও ভূমি রাজস্ব, স্বরাষ্ট্র, আইন, বিদ্যুৎ এবং পাহাড় বিষয়ক দফতর। মূলত পাহাড়ের পরিস্থিতি ও রাজ্যের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তিনি এই বিভাগগুলো নিজের অধীনে রাখছেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। এরপর ৯ মে দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনীয়ার মতো হেভিওয়েট নেতারা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তীতে ১ জুন বাকি মন্ত্রীদের শপথ সম্পন্ন হয়। আজ দফতর বন্টনের মাধ্যমেই শুভেন্দুর নতুন মন্ত্রিসভা পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজকে ত্বরান্বিত করতেই এই সুশৃঙ্খল বিন্যাস। এখন দেখার বিষয়, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন।





