দুই বিচ্ছেদ, তিন নম্বর বিয়ে— আমির খানের ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায় কি দীর্ঘস্থায়ী হবে?

বলিউড সুপারস্টার আমির খান মানেই পর্দায় নিখুঁত অভিনয় আর বাস্তব জীবনে ছকভাঙা সব সিদ্ধান্ত। সেই ধারা বজায় রেখেই মিস্টার পারফেকশনিস্ট ঘোষণা করেছেন, আগামী ৫ জুলাই, ২০২৬-এ তিনি আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন। তাঁর হবু স্ত্রী বর্তমান পার্টনার গৌরী স্প্র্যাট। গত বছর থেকেই গৌরীর সঙ্গে আমিরের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা ছিল, তবে এখন সেই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়ার অপেক্ষায় অনুরাগীরা। কিন্তু আমিরের তৃতীয় বিয়ের এই সানাই বাজার আবহে ফের ফিরে আসছে তাঁর আগের দুই ভাঙা দাম্পত্যের কথা। কেন টিকল না সেই সম্পর্কগুলো?

আমিরের প্রথম বিয়ে ছিল ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তের সঙ্গে, যখন অভিনেতার বয়স ছিল মাত্র ২১। সেই স্ট্রাগলিং দিনগুলোতে রীনা ছিলেন তাঁর বড় ভরসা। ‘লগান’ ছবির প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেছেন রীনা। জুনায়েদ ও ইরা নামে দুই সন্তান থাকা সত্ত্বেও ১৬ বছরের দাম্পত্য ভেঙে যায় ২০০২ সালে। আমির নিজেই পরে স্বীকার করেছিলেন যে, খুব অল্প বয়সে আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং তাঁর চরম ‘ওয়ার্কাহোলিজম’ বা কাজের প্রতি আসক্তিই এই বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ ছিল। তবে বিচ্ছেদ হলেও, আজও এই প্রাক্তন জুটি সন্তানদের বড় করার দায়িত্ব এবং একে অপরের প্রতি সৌজন্য বজায় রেখেছেন।

রীনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০০৫ সালে আমির ভালোবেসে বিয়ে করেন পরিচালক কিরণ রাওকে। সারোগেসির মাধ্যমে ২০১১ সালে তাঁদের কোল আলো করে আসে আজাদ রাও খান। বলিপাড়ায় তাঁদের জুটি ছিল অত্যন্ত রুচিশীল ও পরিপক্ব। কিন্তু ২০২১ সালের জুলাই মাসে সকলকে অবাক করে দিয়ে বিচ্ছেদের ঘোষণা করেন তাঁরা। কিরণ জানিয়েছিলেন, নিজেদের স্বতন্ত্র সত্তা ও স্পেস বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই বিচ্ছেদ। তবে বিচ্ছেদের পরেও তাঁদের বন্ধুত্ব আজও অটুট।

বলিউডে একাধিক বিয়ের নজির অবশ্য নতুন নয়। কিশোর কুমার, কবীর বেদি বা সঞ্জয় দত্তের মতো তারকারা একাধিকবার জীবনের নতুন বসন্ত খুঁজে নিয়েছেন। আমিরও এখন সেই পথেই। অতীতের তিক্ততা ভুলে তিনি আবারও নতুন করে জীবন সাজাতে প্রস্তুত। পরিবারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এই সিদ্ধান্তে। জুলাইয়ের এই হাই-প্রোফাইল বিয়ের দিকে এখন তাকিয়ে গোটা বলিউড। অনুরাগীমহলে প্রশ্ন একটাই— তৃতীয় বিয়েতে আমির কি জীবনের সেই কাঙ্ক্ষিত স্থায়িত্ব খুঁজে পাবেন?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy