তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা সাম্প্রতিক বিদ্রোহ এবং দলবদলু নেতাদের নিয়ে এবার সরাসরি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মুখ খুললেন সাংসদ কীর্তি আজাদ। এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের ভেতরে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং নেতৃত্ববিরোধী মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে কীর্তি আজাদ বিদ্রোহীদের নৈতিকতার পাঠ পড়ালেন। তাঁর মতে, ‘মা-মাটি-মানুষের’ এই দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় ২৯ জন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। সেই জয়ের পর যারা এখন দলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন, তাঁদের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি।
কীর্তি আজাদের স্পষ্ট বক্তব্য, “যারা এখন দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছেন, নির্বাচনের আগে তাঁদের সমস্যাগুলো কোথায় ছিল? নির্বাচনের আগে অভিযোগ না জানিয়ে এখন কেন সরব হচ্ছেন?” তিনি সুখেন্দু শেখর রায়ের উদাহরণ টেনে বলেন, সুখেন্দু বাবু দল ছেড়েছেন ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিক নৈতিকতার খাতিরে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিদ্রোহীদের উদ্দেশে কীর্তির কড়া বার্তা, “যদি আপনাদের সামান্যতম আত্মসম্মানবোধ ও নৈতিকতা থাকে, তবে পদত্যাগ করুন। দলের টিকিটে জিতে এখন বিদ্রোহ করছেন—এটি পুরোপুরি বিশ্বাসঘাতকতা। ক্ষমতা থাকলে বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে লড়ে জিতুন, তখন বোঝা যাবে কার জনপ্রিয়তা কতখানি।”
সাংসদ আরও জোর দিয়ে বলেন, দলের কর্মীদের ওপর আক্রমণ হলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন। তিনি স্পষ্ট করেন, যারা বিপদের দিনে কর্মীর পাশে দাঁড়ান না, তাঁরা দলের মূল আদর্শকে অপমান করছেন। কীর্তি আজাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে হারেনি, বরং বিরোধী শক্তির চক্রান্তে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের হারানো হয়েছে।
সম্প্রতি তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন প্রকাশ্যে এসেছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক বিধায়ক ও নেতার সরাসরি বিদ্রোহের ঘটনায় রাজনৈতিক মহল সরগরম। কীর্তি আজাদের এই মন্তব্য সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে। দলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর এখন যে ধরনের অভিযোগ উঠছে, তাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবেই দেখছেন কীর্তি আজাদ। কর্মীদের প্রতি আনুগত্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বিদ্রোহীদের স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, দলের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দলের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করার দিন শেষ। এখন দেখার বিষয়, সাংসদের এই কড়া হুঁশিয়ারি বিদ্রোহী নেতাদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়।





