সোমবার গভীর রাতে তোলাবাজি, মানসিক নির্যাতন এবং খুনের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগে নিউটাউনের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার হন বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র ও তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। মঙ্গলবার দুপুরে যখন বিধাননগর উত্তর থানা থেকে তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখনই পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। সব্যসাচী দত্তকে থানা থেকে বের করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে উপস্থিত জনতা এবং বিজেপি সমর্থকরা।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, থানা চত্বরে আগে থেকেই জড়ো হয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের কারও হাতে ছিল ডিমের ট্রে, কেউবা পলিথিনে ভরে এনেছিলেন ডিম, আবার কেউ কেউ কচুপাতায় করে এনেছিলেন গোবর। এছাড়া প্রচুর টমেটোও মজুত ছিল তাঁদের কাছে। পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করেই প্রাক্তন এই বিধায়কের দিকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ডিম, টমেটো এবং গোবর ছুড়তে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার নেপথ্যে থাকা বিজেপি সমর্থক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় এই ‘অভিনব’ বিক্ষোভের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিম-ভাত খাইয়েছিলেন, তাই আমরাও এই চোরদের ডিম দিয়ে সম্বর্ধনা দিচ্ছি। তৃণমূলের এই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের আমরা এভাবেই স্বাগত জানাব। এরা শুধু দুর্নীতিই করেনি, বহু যুবকের চাকরি খেয়েছে, সাধারণ মানুষের দোকানপাট দখল করেছে এবং বাজার থেকে তোলা তুলেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, সব্যসাচী দত্তের কঠোর শাস্তির জন্যই তাঁরা এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়েই নিউটাউনের আবাসনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এদিন আদালত চত্বরে তাঁকে পেশ করার সময়ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও, জনরোষের মুখে পড়তে হয় প্রাক্তন এই তৃণমূল নেতাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একজন হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে এই ধরণের আক্রমণ কেবল ব্যক্তিগত বিরাগ নয়, বরং তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতারই বহিঃপ্রকাশ। সব্যসাচী দত্তের মতো নেতার বিরুদ্ধে এই ধরণের চরম অপমানের ঘটনা তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন থানা চত্বরে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান এবং ডিম-গোবর ছোড়ার দৃশ্য ছিল রীতিমতো অভূতপূর্ব। বর্তমানে এলাকাটি অতিরিক্ত পুলিশি পাহারায় রয়েছে এবং সব্যসাচী দত্তকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।





