খাটের নিচে লুকিয়েও হলো না শেষরক্ষা! কাটমানি ও হিংসার অভিযোগে পুলিশের জালে তৃণমূল নেতারা

রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহ এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের উত্তাপের মধ্যেই হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূল নেতা ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা এবং কাটমানি কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর খোঁজ চলছিল। তবে পুলিশি তল্লাশির সময় তাঁর গ্রেফতারির ঘটনাটি এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তীকে গ্রেফতারের জন্য যখন তদন্তকারী দল তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়, তখন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই তিনি আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে তিনি নিজেকে ঘরের এক কোণে রাখা বিশাল শাড়ির স্তূপের নিচে লুকিয়ে ফেলেছিলেন। তদন্তকারীরা ঘরের বিভিন্ন জায়গায় তন্ন তন্ন করে খোঁজার পর ওই শাড়ির স্তূপ সরাতেই বেরিয়ে আসেন ব্রহ্মানন্দ। পুলিশ তাঁকে ওই অবস্থায় উদ্ধার করে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য আটক করে। ঘটনার সময় তিনি যে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, তা দেখে পুলিশ আধিকারিকরাও বিস্মিত হয়ে যান। বর্তমানে তাঁর এই ‘লুকোচুরি’ খেলার ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কোচবিহারের মাথাভাঙা এলাকা থেকে উঠে এল তৃণমূল নেতা শাহিদুল মিয়াঁকে নিয়ে একই ধরনের এক চাঞ্চল্যকর খবর। আবাস যোজনার কাটমানি ফেরতের দাবিতে এলাকার বাসিন্দারা শাহিদুল মিয়াঁর বাড়ি ঘেরাও করেন। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে গ্রামবাসীদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন তিনি। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকলে জনরোষ থেকে বাঁচতে শাহিদুল মিয়াঁ মরিয়া হয়ে নিজের বাড়ির ভেতরেই একটি খাটের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষোভের মুখে পড়া ওই নেতাকে উদ্ধার করে।

এই দুটি ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়, বরং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন। বাংলার নতুন বিজেপি সরকার দুর্নীতি ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাফ বার্তা, দুর্নীতিতে জড়িত কোনো নেতাই এখন আর আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন না। ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তী হোক কিংবা শাহিদুল মিয়াঁ—একের পর এক নেতার এই ‘লুকানোর কৌশল’ আদতে তাঁদের দুর্নীতির দায়কেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভই এখন এইভাবে বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে এই ধরপাকড় অভিযান আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy