পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। জমি জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগে কাঁথি পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অতনু গিরিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ এবং তদন্তের প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে এই গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ দিন ধরেই এই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন, অবশেষে পুলিশের এই পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তির বাতাসের পাশাপাশি রাজনৈতিক টানাপোড়েনও তুঙ্গে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঁথি ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় জমি সংক্রান্ত নানা অভিযোগ অতনু গিরির বিরুদ্ধে জমা পড়ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জাল নথিপত্র তৈরি করে জমির মালিকানা বদলের চেষ্টা করতেন। এছাড়াও, বেআইনিভাবে জমি বিক্রির সঙ্গেও তাঁর নাম বারবার উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জমি দখল ও প্রতারণার এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন এই কাউন্সিলর। এই গুরুতর অভিযোগগুলি সামনে আসতেই প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করে।
তদন্তকারী অফিসাররা বেশ কয়েক মাস ধরেই এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছিলেন। জমির পুরনো দলিল, সরকারি রেজিস্ট্রি দপ্তরে রক্ষিত নথিপত্র এবং অতনু গিরির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের নানা আর্থিক লেনদেন—সবকিছুই গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে ছিল। তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ার পরই পুলিশ তাঁকে কড়া নজরদারিতে রাখে। চূড়ান্ত তদন্তের পর পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
বর্তমানে অতনু গিরিকে থানায় নিয়ে গিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কেবল অতনু গিরি একা নন, এই জমি জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। জমির নথি জাল করার নেপথ্যে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অতনু গিরির বয়ানের সঙ্গে পাওয়া নথিগুলো মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চক্রে বড় কোনো রাঘববোয়াল বা অন্য কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের যোগসাজশ আছে কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।
এই ঘটনাকে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে। যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে এই বিষয়ে খুব একটা মুখ খোলা হয়নি। তবে কাউন্সিলরের গ্রেফতারির ফলে এলাকায় তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অতনু গিরির গ্রেফতারির পর থেকে কাঁথি পুরসভা চত্বরেও ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের এই অভিযান আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে এখন গোটা এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। তদন্ত যত এগোবে, জালিয়াতির জাল যে আরও বড় হবে, তা বলাই বাহুল্য।





