তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও বিদ্বেষের আবহ প্রবল, ঠিক সেই মুহূর্তেই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিল দল। দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় এই বড়সড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করলেন প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন এই রদবদল? বৈঠক শেষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিতে তৃণমূল নিজেকে নতুনভাবে সাজিয়ে নিচ্ছে। দলের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস, নতুন দায়িত্ব বণ্টন এবং রাজ্য নেতৃত্বে পরিবর্তনের মাধ্যমেই আগামী দিনের লড়াইয়ের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে। অভিষেককে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব কার্যত বুঝিয়ে দিল যে, দলের তরুণ প্রজন্মের ওপরই তারা আস্থা রাখছে।
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চ্যালেঞ্জ: গত কয়েক দিন ধরে দলের অন্দরে যেভাবে নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে বিদ্বেষের সুর শোনা যাচ্ছিল, তাতে এই বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দল এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বার্তা দিতে চাইছে যে, সমস্ত অভ্যন্তরীণ মতভেদ সরিয়ে রেখে এখন আসন্ন লড়াইয়ে মনোনিবেশ করতে চাইছে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে ফেরানোর মাধ্যমে সাংগঠনিক রাশ ফের নিজের হাতে শক্ত করার ইঙ্গিত দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের অন্দরে বিবাদ কতটা প্রশমিত হয় এবং অভিষেকের নেতৃত্বে দল কতটা গতি পায়, এখন সেটাই দেখার। তবে এই রদবদল যে তৃণমূলের রাজনৈতিক সমীকরণে একটি বড় পদক্ষেপ, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।





