তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট এখন চরমে। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন সমীকরণে গড়ে ওঠা বিদ্রোহী গোষ্ঠী, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগতদের অটল অবস্থান—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত রাজ্যের শাসকদল। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিধায়ক কুণাল ঘোষের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
অভিষেককে কাঠগড়ায় কুণাল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে গিয়ে কুণাল ঘোষ ঘুরিয়ে নিশানা করেছেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কুণালের বিস্ফোরক মন্তব্য, “ঋতব্রত তো অভিষেকের ঘনিষ্ঠ। অভিষেকই তাঁকে আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি করেছিলেন, রাজ্যসভার সাংসদ করেছিলেন। অভিষেকই তাঁকে মন্ত্রী করার পরিকল্পনা করেছিলেন।” কুণালের এই বক্তব্য কার্যত দলের ভেতরের গোপন সমীকরণগুলোকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যারা মুখে অভিষেকের বিরোধিতা করছেন, তারাই আবার তাঁর দাক্ষিণ্যে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ব্যক্তিকে নেতা হিসেবে মানছেন কি না।
শোভনদেব বনাম ঋতব্রত: তুলনা টানলেন কুণাল বিদ্রোহী বিধায়কদের উদ্দেশ্যে কুণাল ঘোষের স্পষ্ট বার্তা, “আপনারা কি ১০ বারের বিধায়ক, আদ্যন্ত মমতাপন্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নেতা মানবেন, নাকি দুটি দল থেকে বিতাড়িত, ক্ষমতার সঙ্গে থাকার প্রবণতাসম্পন্ন ঋতব্রতকে?” কুণাল আরও বলেন, বিদ্রোহী বিধায়করা দলের প্রতীক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করেই জিতেছেন। তাই এলাকার তৃণমূল কর্মীদের মতামত না নিয়ে করা এই বিদ্রোহের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
বিদ্রোহী শিবিরেও ফাটলের সুর তবে এই বিদ্রোহের মধ্যেও দলের অন্দরে ফাটলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। পাঁচলার বিধায়ক গুলশন মল্লিক সরাসরি জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো আপস সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের নেত্রী, তাঁকে শুধুমাত্র ‘পথপ্রদর্শক’ বলে অভিহিত করাটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।”
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য একদিকে যেমন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে, তেমনই বিদ্রোহী শিবিরের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটি কৌশলও হতে পারে। তৃণমূল কর্মীদের বড় একটি অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেই ঐক্যবদ্ধ হতে চাইছেন। একদিকে অভিষেক বনাম মমতা শিবিরের এই স্নায়ুর লড়াই, অন্যদিকে সংগঠনের ভাঙন—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





