কলকাতা পুলিশের বড়সড় অভিযানে গ্রেফতার হলেন টলিউডের প্রভাবশালী সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-এর প্রাক্তন সভাপতি এবং তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সাহাপুর কলোনির নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে নিউ আলিপুর থানা। শুক্রবার সকালে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে আলিপুর পুলিশ আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন ও চলচ্চিত্র জগতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কয়েকজন মেকআপ আর্টিস্ট এবং টেকনিশিয়ানের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগকারী এক মহিলা মেকআপ আর্টিস্টের দাবি, কাজের সুযোগ দেওয়ার নাম করে স্বরূপ বিশ্বাস দীর্ঘকাল ধরে তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং যৌন হেনস্থা করেছেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় এই সংক্রান্ত মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
শুধু যৌন হেনস্থাই নয়, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং ভয় দেখানোর ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। টলিপাড়ার কলাকুশলীদের দাবি, সংগঠনের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্বরূপ বিশ্বাস নিয়মিত কাটমানি আদায় করতেন। যারা টাকা দিতে অস্বীকার করতেন, তাঁদের কাজ থেকে বঞ্চিত করা হতো। এমনকি, অভিযোগকারিণীর বয়ান অনুযায়ী, তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং খুনের চেষ্টাও করা হয়েছে।
তদন্তে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিউ আলিপুর থানায় দায়ের করা এফআইআরে অস্ত্র আইনের (Arms Act) ২৫ ও ২৭ নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র মজুত করার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
উল্লেখ্য, অতীতেও স্বরূপ বিশ্বাসের নাম একাধিক বিতর্কে উঠে এসেছে। বিশেষ করে গত ডিসেম্বরে লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে টিকিট কালোবাজারি ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগের ক্ষেত্রেও স্বরূপ বিশ্বাস এবং অরূপ বিশ্বাসের নাম শিরোনামে এসেছিল। সেই ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলছে।
বৃহস্পতিবার রাতে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিউ আলিপুর থানার সামনে প্রচুর মানুষ ভিড় জমান এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে। নিরাপত্তার স্বার্থে রাতেই তাঁকে লালবাজারে সরিয়ে নেওয়া হয়। আইন মেনে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। স্বরূপ বিশ্বাসের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির গ্রেফতারিতে টলিপাড়ার ক্ষমতা সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





