সিঙ্গল মাদারদের জয়! সন্তানের পাসপোর্টের জন্য আর লাগবে না বাবার সম্মতি, ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের

সিঙ্গল মাদারদের আইনি লড়াইয়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট। সাম্প্রতিক এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নাবালক সন্তানের পাসপোর্টের আবেদন বা তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানের বাবার সম্মতির আর কোনো প্রয়োজন নেই। জাস্টিস বাট্টু দেবানন্দের সিঙ্গল বেঞ্চ এই রায় প্রদান করে জানিয়েছে, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশ ভ্রমণ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সন্তানের মঙ্গলের খাতিরে একজন অভিভাবকই যথেষ্ট, আর সে ক্ষেত্রে অন্য অভিভাবকের (বাবা) সম্মতি বাধ্যতামূলক নয়।

ঘটনার সূত্রপাত নেল্লোর জেলার এক মহিলার দায়ের করা একটি পিটিশন থেকে। আবেদনকারী ওই মহিলা ২০২২ সাল থেকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে আলাদা থাকছেন এবং একাই তাঁর চার বছরের কন্যার সমস্ত দায়িত্ব পালন করছেন। স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক ও গার্হস্থ্য হিংসার মামলা বিচারাধীন থাকায় তাঁদের আইনত বিবাহবিচ্ছেদ (ডিভোর্স) এখনো সম্পন্ন হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ওই মহিলা যখন তাঁর মেয়ের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন, তখন পাসপোর্ট অফিস অ্যানেক্সার ‘সি’ এবং ‘ডি’ জমা দেওয়া সত্ত্বেও আবেদনটি আটকে দেয় এবং বৈধ ডিভোর্স পেপার দাবি করে।

পাসপোর্ট অফিসের এই অযৌক্তিক শর্তের বিরুদ্ধে ওই মহিলা অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলাটি শুনানির সময় হাইকোর্ট বোম্বে হাইকোর্টের একটি পূর্ববর্তী রায়কে উদ্ধৃত করে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং জীবনের বিকাশের জন্য একটি অপরিহার্য অঙ্গ। যখন আবেদনকারী নিজে সমস্ত তথ্য প্রকাশ করেছেন এবং পাসপোর্ট ইস্যু করার ওপর অন্য কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা নেই, তখন বিবাহবিচ্ছেদের প্রমাণপত্র চাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসংবিধানিক।

আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আবেদনকারী মহিলার জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যেন ওই শিশুর পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। আদালতের এই রায়ের ফলে হাজার হাজার সিঙ্গল মাদার, যারা স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ না হওয়া সত্ত্বেও আলাদা থাকছেন, তাদের বড় ধরনের আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি মিলল। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভারতের পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করল। যেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে পারিবারিক সামাজিক বিধিনিষেধের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের এই নির্দেশিকা শুধুমাত্র ওই মহিলার জন্য নয়, বরং দেশের প্রতিটি সিঙ্গল প্যারেন্টের লড়াইয়ে এক নতুন আশার আলো হয়ে উঠল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy