বন্ধু মোদীর ওপর ভরসা ট্রাম্পের! ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে কি মিলবে বড় সুখবর?

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা বাণিজ্য চুক্তি কি এবার বাস্তবায়নের পথে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের একবার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন মোড় নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আশাপ্রকাশ করেছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে নয়া দিল্লি ও ওয়াশিংটন একটি সমন্বিত বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হতে চলেছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া অত্যন্ত গভীর, যা দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অচলাবস্থা কাটাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে এই বন্ধুত্বের বার্তার ভেতরেই লুকিয়ে আছে কঠোর বাণিজ্যিক বাস্তবতা। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, ট্রাম্প ভারতকে নিশানা করতে ছাড়েননি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ বছর ধরে ভারত আমেরিকার নীতির সুযোগ গ্রহণ করেছে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক চাপিয়ে এসেছে। এর পাল্টা কোনো সুবিধা আমেরিকা পায়নি বলেই তাঁর দাবি। বিশেষ করে আইকনিক হার্লে ডেভিডসন মোটরসাইকেলের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প আক্ষেপ করেন যে, ভারত যখন এই বাইকের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়েছিল, তখন মার্কিন সংস্থাগুলো ভারতের বাজারে টিকতে হিমশিম খাচ্ছিল। যদিও পরবর্তীকালে ওই কোম্পানি ভারতে কারখানা তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে, তবে ট্রাম্প এটিকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ একদিকে যখন তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা বলছেন, ঠিক তার আগের দিনই ট্রাম্প প্রশাসন ভারতসহ ৫৪টি দেশের ওপর ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ‘ফোর্সড লেবার’ বা জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যর্থতার অজুহাতে এই শাস্তিমূলক শুল্কের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে একাধিক ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, দুই পক্ষই দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি মোদী ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছিল, যেখানে ৫০ শতাংশ থেকে শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে আনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলেছিল। এমনকি রাশিয়ার তেল কেনার ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক তুলে নেওয়ারও প্রাথমিক ইঙ্গিত ছিল। তবে ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ নীতিকে অনৈতিক বলে ঘোষণা করায় নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়। এরপরই ট্রাম্প ১৫০ দিনের জন্য সমস্ত দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা দেন। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই মোদী-ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রসায়ন এখন বাণিজ্য চুক্তির মূল নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাণিজ্য শুল্কের এই গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে আসা ভারতের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনই মার্কিন প্রশাসনের অস্থিতিশীল নীতিও আগামী দিনে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।