ভারতীয় রেলকে দেশের লাইফলাইন বা ‘ধমনী’ বলা হয়। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এই পরিষেবার ওপর ভরসা করেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামদায়ক সফরের জন্য আরপিএফ (RPF), জিআরপি (GRP) এবং টিকিট পরীক্ষক বা টিটিই (TTE) সবসময় তৎপর থাকেন। এত সতর্কতা সত্ত্বেও এক শ্রেণির যাত্রীর আইন ভাঙার প্রবণতা যেন কিছুতেই কমছে না। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিহারের সমস্তিপুর ডিভিশনের একটি ট্রেনের ঘটনা ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক যাত্রী সপরিবারে ট্রেনের একটি স্লিপার কোচের সাইড লোয়ার বার্থ দখল করে দাপটের সঙ্গে বসে আছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ওই যাত্রীর কাছে রয়েছে কেবল সাধারণ বা জেনারেল কামরার টিকিট। সাধারণ টিকিট নিয়ে স্লিপার কোচে ভ্রমণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো তোয়াক্কা না করে আসন দখল করে বসে থাকেন।
ঘটনার সময় কর্তব্যরত সিনিয়র টিটিই দীপক কুমার তিওয়ারি এবং আরপিএফ কনস্টেবল রবি কুমার ওই যাত্রীকে অত্যন্ত ভদ্রভাবে জেনারেল কামরায় চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু নিজের ভুল স্বীকার করা তো দূরের কথা, ওই যাত্রী উল্টে রেলকর্মীদের সঙ্গে চরম অভব্য আচরণ ও তর্ক শুরু করেন। রেলকর্মীরা যখন তাঁকে বারবার আইন বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন ওই যাত্রী বাচ্চার দোহাই দিয়ে গলা চড়িয়ে ঝগড়া করতে থাকেন। টিটিই তাঁকে আইন মেনে জরিমানা দেওয়ার অথবা টিকিট আপগ্রেড করার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা সরাসরি নাকচ করে দেন এবং উল্টে রেলকর্মীদেরই ‘নীতিশিক্ষা’ দিতে শুরু করেন।
ওই যাত্রীর দাবির ধরণ ছিল একেবারেই অদ্ভুত। তিনি দাবি করেন, চলন্ত ট্রেনে তিনি যদি কামরা বদলাতে গিয়ে নিচে পড়ে যান, তবে তার দায়ভার রেলকর্মীদেরই নিতে হবে। টিটিই তাঁকে মনে করিয়ে দেন যে, যাত্রী বিহারের ঝাঞ্ঝারপুর থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন এবং মাঝপথে দারভাঙ্গা স্টেশনে ট্রেনটি প্রায় কুড়ি মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও তিনি কামরা বদলাননি। স্টেশনে নামার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার না করে চলন্ত ট্রেনে নামিয়ে দেওয়ার অজুহাত তুলে তিনি অশান্তি পাকাচ্ছিলেন।
এই কাণ্ডকারখানা দেখে কোচের অন্যান্য যাত্রীরা অবাক হয়ে যান। তবে শেষ পর্যন্ত ওই যাত্রীর কোনো দাদাগিরিই ধোপে টেকেনি। টিটিই এবং আরপিএফ-এর কড়া মনোভাবের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন তিনি। সাধারণ টিকিট নিয়ে স্লিপার ক্লাসে দাদাগিরি যে বরদাস্ত করা হবে না, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে শেষমেশ তাঁকে স্লিপার কোচ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষ রেলের নিয়ম ভাঙার এমন প্রবণতার নিন্দা জানাচ্ছেন এবং রেলকর্মীদের কঠোর ভূমিকার প্রশংসা করছেন।





