কেরলের পালাক্কড় জেলার পুথুনাগারামের একটি ফিটনেস সেন্টার ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নিজেদের ‘ইসলাম ফ্রেন্ডলি জিম’ হিসেবে প্রচার করতে গিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, শরীরচর্চার মতো একটি ক্ষেত্রেও কি ধর্মের পরিচয় যোগ করা প্রয়োজন?
কী নিয়ে বিতর্ক? সম্প্রতি জিমের মালিক নওয়াজ মুথু টি একটি প্রচারমূলক ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁদের জিমটি কেরলের প্রথম ‘ইসলাম ফ্রেন্ডলি’ জিম। ভিডিওতে নওয়াজ জানান, এই জিমে উচ্চস্বরে গান বাজানো হবে না, এবং পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা সময় ও আলাদা ওয়ার্কআউট জোন থাকবে। এমনকি প্রশিক্ষকদের ক্ষেত্রেও লিঙ্গভিত্তিক পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মালিকের সাফাই, কী বলছেন তিনি? ভিডিওটি ভাইরাল হতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন নওয়াজ। অনেকে দাবি করেন, জিমটি কি তবে শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য? পরিস্থিতি সামলাতে পুরোনো ভিডিও সরিয়ে নতুন ভিডিও প্রকাশ করেন মালিক। নওয়াজ স্পষ্ট করেন:
জিমটি সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত।
‘ইসলাম ফ্রেন্ডলি’ বলতে তিনি ধর্মের ভিত্তিতে সদস্যপদ বোঝাতে চাননি।
তাঁর মতে, অনেক মুসলিম পরিবার ধর্মীয় নিয়মের কারণে সাধারণ জিমে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। বিশেষ করে মিক্সড ওয়ার্কআউট বা উচ্চস্বরে গান বাজানোর পরিবেশ তাঁদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি জানান, জিমে কেউ গান শুনতে চাইলে হেডফোন ব্যবহার করতে পারেন, তাতে আপত্তি নেই।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্বিমত এই উদ্যোগ নিয়ে নেটিজেনরা দুই শিবিরে বিভক্ত।
সমর্থকদের মতে: অনেক মহিলা অপরিচিত পুরুষদের সামনে শরীরচর্চা করতে অস্বস্তিবোধ করেন। তাই নারী-পুরুষের পৃথক ওয়ার্কআউট ব্যবস্থা একটি ভালো পদক্ষেপ। অনেক জিমে যাওয়ার সুযোগ পান না, এটি তাঁদের জন্য নতুন দরজা খুলে দেবে।
সমালোচকদের মতে: কেন ফিটনেস সেন্টারে ধর্মকে টেনে আনা হচ্ছে? একে অনেকেই ‘বিভাজনমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ আবার কটাক্ষ করে বলেছেন, আধুনিক যুগে এ ধরনের চিন্তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আবার অনেকের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।
মালিকের ব্যাখ্যা সত্ত্বেও বিতর্ক থামার নাম নেই। জনসমক্ষে আসা এই বিষয়টি এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। শরীরচর্চার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ধর্মীয় অনুশাসনের এই মিশ্রণ কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।





