ক্রিকেট ময়দানের মহারাজা থেকে প্রশাসনিক স্তরের ব্যক্তিত্ব—সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বলয়ে এল বড়সড় পরিবর্তন। এতদিন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যে ‘জেড’ (Z) ক্যাটাগরির সুরক্ষিত বলয়ে ছিলেন, এবার সেই নিরাপত্তা কমিয়ে ‘ওয়াই’ (Y) ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সাধারণত উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বা বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজনে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারিত হয়। এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে সৌরভের নিরাপত্তাকে ‘ওয়াই’ থেকে উন্নীত করে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র এক বছরের মধ্যেই সেই সুরক্ষাবলয় কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য প্রশাসন।
নিরাপত্তার এই বিন্যাস পরিবর্তনের ফলে কী কী বদল আসবে? ‘জেড’ ক্যাটাগরির আওতায় এতদিন অন্তত ৩৫ জন নিরাপত্তারক্ষী সৌরভের সুরক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। যার মধ্যে রাজ্য পুলিশের কমান্ডো এবং পাইলট কারের সুবিধা ছিল। কিন্তু ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরিতে আসার পর এই নিরাপত্তার বহর অনেকটাই সংকুচিত হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে তিনজন স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ আধিকারিক এবং তাঁর বেহালার বাসভবনে তিনজন নিরাপত্তা কর্মী মিলিয়ে মোট তিন থেকে চার জনের একটি ছোট্ট দল তাঁর সুরক্ষার দায়িত্বে থাকবে। তাঁদের মধ্যে দু’জন সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী থাকবেন।
উল্লেখ্য, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করছে নবান্ন। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একই রূপ কাটছাঁট করা হয়েছিল। একে একে একাধিক নেতা ও প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের নিরাপত্তার স্তর পুনর্বিবেচনা করে কমিয়ে আনা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এই রদবদল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে মহারাজকে কেন এই নতুন সুরক্ষা বলয়ে আনা হলো, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি।





