দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। অর্থ দফতরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে মৃত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের নিকটাত্মীয় বা বৈধ উত্তরাধিকারীরা তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দাবি করতে পারবেন। এই ঘোষণাকে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে সরকারি কর্মীদের পরিবারের জন্য এক বিশাল স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার অর্থ দফতরের প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পরিশোধ করা হবে। এতদিন এই বকেয়া পাওনা নিয়ে পরিবারগুলির মধ্যে সংশয় ছিল, তবে নবান্নের এই নির্দেশিকার পর সেই অনিশ্চয়তা কাটল। যে সমস্ত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের বৈধ উত্তরাধিকারীদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্রসহ সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্থ দফতরের স্পষ্ট নির্দেশ, কোনো জটিলতা ছাড়াই যাতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে ট্রেজারি অফিসারদের।
শুধুমাত্র মৃত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের উত্তরাধিকারীরাই নন, এই নতুন নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে মৃত কর্মীদের পারিবারিক পেনশন প্রাপকদেরও। অর্থ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মৃত পেনশন প্রাপকদের মতোই নিয়ম কার্যকর হবে। রাজ্যের এই উদ্যোগে বহু মৃত সরকারি কর্মীর পরিবার আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে যারা অন্য রাজ্যে বা বিদেশে নিজেদের পেনশন কেস স্থানান্তর করেছেন, তাঁদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করেছে অর্থ দফতর। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও গতি আনতে এই ধরনের কেসগুলির ক্ষেত্রে আইনি উত্তরাধিকারী বা নিকটাত্মীয়দের সংশ্লিষ্ট ট্রেজারির হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো সমস্যা বা জিজ্ঞাস্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি থেকেই পরিবারগুলিকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
একইসঙ্গে, রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের জন্য আরও এক বড় ঘোষণা করেছে সরকার। গত নভেম্বর মাসে লাইফ সার্টিফিকেট বা জীবন প্রমাণপত্র জমা দিতে না পারায় যে সমস্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা পারিবারিক পেনশন প্রাপকদের পেনশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাঁদের জন্য ফের দরজা খুলে দিল অর্থ দফতর। পেনশনারদের স্বার্থে সরকার একটি বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে যাতে তাঁরা অবিলম্বে জীবন প্রমাণপত্র জমা দিয়ে পুনরায় পেনশন চালু করতে পারেন। সরকার জানিয়েছে, এই শংসাপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি অনলাইন বা অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই সম্পন্ন করা যাবে। পেনশনারদের সুবিধার্থে অফিস বা ট্রেজারিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সার্টিফিকেট জমা দেওয়া যাবে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে সরকারি কর্মীদের মধ্যে স্বস্তির বাতাস বইছে। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবি এবং পেনশন সংক্রান্ত জটিলতাগুলি মিটিয়ে পরিবারগুলোর হাতে দ্রুত পাওনা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুততার সাথে এই আবেদনগুলি খতিয়ে দেখে বকেয়া অর্থ ছাড় করা হয়। রাজ্যের এই জনমুখী সিদ্ধান্ত সরকারি পরিবারের মানুষদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।





