সনাতন ধর্মে একাদশীর মাহাত্ম্য অপরিসীম, তবে যখন আসে ‘পরম একাদশী’, তখন তার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রতি তিন বছরে একবার অধিক মাসে আসা এই একাদশী ভগবান বিষ্ণুর অত্যন্ত প্রিয়। শাস্ত্র মতে, এই পবিত্র তিথিতে দান-ধ্যান এবং বিষ্ণু আরাধনা করলে বহু যজ্ঞের সমান পুণ্য লাভ হয়। যারা আর্থিক অনটন বা মানসিক অশান্তিতে ভুগছেন, তাদের জন্য এই ব্রত এক পরম আশীর্বাদ।
পরম একাদশীর দিনক্ষণ ও সময়:
দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১১ই জুন পালিত হবে পরম একাদশী। একাদশী তিথি শুরু হবে ১১ই জুন রাত ১২:৫৭ মিনিটে এবং সমাপ্ত হবে একই দিন রাত ১০:৩৬ মিনিটে। ব্রত ভঙ্গ বা পারণের শ্রেষ্ঠ সময় ১২ই জুন ভোর ৫:২৩ মিনিট থেকে সকাল ৮:১০ মিনিটের মধ্যে।
পরম একাদশীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য:
সনাতন ঐতিহ্যে অধিক মাস বিষ্ণুর মাস হিসেবে পরিচিত। এই মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীই ‘পরম একাদশী’ নামে খ্যাত। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে উপবাস, কীর্তন ও দান করলে পাপ মুক্তি ঘটে এবং সুখ-শান্তি বজায় থাকে। যারা জীবনের জটিল প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করছেন, তাদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ। অভাবীদের অন্ন, বস্ত্র ও দক্ষিণা দান করা এই তিথির অন্যতম প্রধান অঙ্গ।
শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের কথোপকথন:
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, মহাভারত যুদ্ধের সময় স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এই একাদশীর মাহাত্ম্য বুঝিয়েছিলেন। অর্জুনের প্রশ্নের উত্তরে কৃষ্ণ বলেছিলেন, পরম একাদশীর ব্রত সমস্ত পাপ বিনাশ করে এবং পার্থিব দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়। যারা নিষ্ঠার সাথে এই ব্রত পালন করেন, তারা ধন-যশ ও মোক্ষ লাভের অধিকারী হন।
রাজা হরিশচন্দ্রের কাহিনী ও বিশ্বাস:
পরম একাদশীর সাথে জড়িয়ে আছে সত্যবাদী রাজা হরিশচন্দ্রের জীবনসংগ্রামের কাহিনী। কঠিন সময়ে ঋষির উপদেশে এই ব্রত পালন করেই তিনি তাঁর হৃত রাজ্য, পরিবার ও সম্মান ফিরে পেয়েছিলেন। তাই এই একাদশীকে ‘দুঃখ বিনাশকারী’ বা ‘মনোবাঞ্ছা পূর্ণকারী’ ব্রত হিসেবে গণ্য করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনে শুদ্ধ চিত্তে প্রার্থনা করলে ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় জীবনের সমস্ত বাধা বিপত্তি দূর হয়।





