উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলার খোদা থানা এলাকার কুখ্যাত ‘সূর্য হত্যা মামলা’-র মূল অভিযুক্ত আসাদ পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। এনকাউন্টারের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এখন পুরো পরিবার চরম সংকটের মুখে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসাদের বাড়িতে উচ্ছেদের নোটিশ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে যেকোনো মুহূর্তে বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার (বুলডোজার অ্যাকশন) আশঙ্কায় কাঁপছে অভিযুক্তের পরিবার।
আসাদের পরিবারের দাবি, আসাদ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিজের অপরাধের চূড়ান্ত শাস্তি পেয়ে গেছে। কিন্তু এখন প্রশাসনের বুলডোজার নীতিতে নারী ও শিশুরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আসাদের চাচা আবিদ অশ্রুসিক্ত চোখে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, “আসাদের কৃতকর্মের বিচার হয়ে গেছে। কিন্তু তার অপরাধের জন্য আমরা এবং নিষ্পাপ শিশুরা কেন শাস্তি পাব? আমাদের গৃহহীন করবেন না, এই বাড়িই আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল।”
ঢাক পিটিয়ে ১৫ দিনের চরমপত্র
সম্প্রতি গাজিয়াবাদের খোদা এলাকার নবনীত বিহারে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে অভিযানে নামে স্থানীয় প্রশাসন। সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তের বাড়ির বাইরে প্রকাশ্যে কারণ দর্শানো ও উচ্ছেদ নোটিশ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনিক নিয়ম মেনে লাউডস্পিকারে এবং ঢাক পিটিয়ে পুরো এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযানের কথা ঘোষণা করা হয়। স্বয়ং তহসিলদার এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এই নোটিশ কার্যকর করেন।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে জমির ওপর এই বাড়িটি নির্মিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দখল করা। প্রশাসন অভিযুক্ত পক্ষকে মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে তাদের স্বপক্ষে বক্তব্য পেশ করার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
বুলডোজার অভিযানের হুমকি ও জরিমানার ভয়
প্রশাসনের জারি করা এই নোটিশকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যদি অভিযুক্তের পরিবার নিজেরাই অবৈধ নির্মাণ বা দখল অপসারণ না করে, অথবা আদালতে সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সরাসরি বুলডোজার দিয়ে বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এখানেই শেষ নয়, ধ্বংসযজ্ঞের পর বাড়ি ভাঙার খরচ এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর যাবতীয় ব্যয়ও অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকেই আদায় করবে সরকার। এই কঠোর বার্তার পর নবনীত বিহার এলাকায় বর্তমানে থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আসাদের পরিবারের সদস্যরা এখন আইনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, যদি কোনোভাবে এই আসন্ন বিপদ এড়ানো যায়। প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় এখন পুরো এলাকা জুড়ে কেবল একটাই আলোচনা—আসাদের অকাল মৃত্যুর পর তার পরিবার কি এবার বাস্তুভিটাও হারাবে?





