আপনি কি নিয়মিত দূরপাল্লার ট্রেনে যাতায়াত করেন? দেরিতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস আছে কি আপনার? তাহলে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ভারতীয় রেলের যাত্রী পরিষেবা ও ক্যাটারিং ব্যবস্থার দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংস্থা ‘আইআরসিটিসি’ (IRCTC) ট্রেনে খাবার পরিবেশন ও প্যান্ট্রি পরিষেবা সংক্রান্ত নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল। এখন থেকে ট্রেনে খাবার পাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাত্রীদের জন্য রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ট্রেনের প্যান্ট্রি পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, রাত ১১টার পর থেকে কোনও যাত্রী ট্রেনে খাবার কিনতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, প্যান্ট্রি পরিষেবা বন্ধ থাকাকালীন যাত্রীরা চা, কফি বা গরম জল পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবেন। রেল কর্তৃপক্ষের এই নতুন নিয়ম মূলত সেই সব যাত্রীদের জন্য অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যারা গভীর রাতে ট্রেনে ওঠেন অথবা দেরিতে রাতের খাবার খাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
এত বড় সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে আইআরসিটিসি-র তরফে জানানো হয়েছে, প্যান্ট্রি কারের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্যই এই বিরতি অত্যন্ত জরুরি। রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সময়টুকু মূলত প্যান্ট্রি ক্লিনিং এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ প্যান্ট্রি বন্ধ থাকার ফলে ট্রেনের খাবারের গুণমান এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় থাকবে বলেই মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর ধাদবাদ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন থেকে যেসব যাত্রী গভীর রাতে ট্রেনে উঠবেন, তাদের এখন থেকে নিজের সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাবার নিয়ে ওঠার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অথবা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে থাকা অনুমোদিত ভেন্ডরদের ওপর তাদের নির্ভর করতে হবে। যেহেতু প্যান্ট্রি পরিষেবা এই দীর্ঘ সময়ে বন্ধ থাকবে, তাই শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়াতে যাত্রীদের আগে থেকেই সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রেল পরিষেবা উন্নত করার লক্ষ্যে নিয়মিত পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্যান্ট্রির খাবার ও গরম পানীয়র ওপর নির্ভরশীল যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই দূরপাল্লার সফর পরিকল্পনার সময় এখন থেকে খাবারের বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিতে হবে যাত্রীদের। ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য এই নতুন নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক।





