নিট ইউজি (NEET UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যেই মঙ্গলবার (২ জুন) দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতে হাজির করা হয় এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মঙ্গিলাল বিভাল, বিকাশ বিভাল, দীনেশ বিভাল, যশ যাদব এবং ধনঞ্জয় লোখান্ডেকে। সিবিআই তদন্তের সূত্রে ধৃত এই পাঁচজনের পূর্ববর্তী বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ এদিন শেষ হওয়ায় তাদের আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে বিচারক অভিযুক্তদের জেল হেফাজতের মেয়াদ আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন।
তবে এই শুনানির মাঝেই অন্যতম অভিযুক্ত যশ যাদবের একটি অদ্ভুত আবেদন ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যশ আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছেন যে, তাকে জেলে পড়াশোনার জন্য বই রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। তার দাবি, সে পুনরায় নিট ইউজি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে চায়, যার জন্য বইগুলো তার কাছে থাকা একান্ত প্রয়োজন। এই আবেদনটি বিচার প্রক্রিয়া ও অভিযুক্তের মানসিকতার নতুন দিক উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
এদিকে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি এখন আর কোনো ছোটখাটো অনিয়ম নয়, বরং এক বিশাল জালের রূপ নিয়েছে। সিবিআই মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের মতো একাধিক রাজ্যে সমান্তরাল তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক নতুন নাম সামনে আসছে। সম্প্রতি লাতুর থেকে এক চিকিৎসক সহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চিকিৎসক ড. শিরুরে তিনজন ছাত্রকে রসায়ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেছিলেন। এর মধ্যে একজন ছিল স্থানীয় এক কোচিং সেন্টারের পরিচালকের পুত্র।
জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, প্রশ্নপত্রগুলো পি.ভি. কুলকার্নির কাছ থেকে হাতবদল হয়ে আসছিল। অপর ধৃত তেজস হর্ষদকুমার শাহ পুনের বিখ্যাত ‘ড. অভঙ্গ প্রভু মেডিকেল একাডেমি’ (এপিএমএ)-তে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, তেজস মনীষা হাবলদার নামক এক ব্যক্তির থেকে ফাঁস হওয়া পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। এই তথ্য প্রমাণ করে যে, নিট জালিয়াতির শিকড় কত গভীরে এবং কতটা পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। সিবিআই এখন এই নেটওয়ার্কের প্রতিটি প্রান্ত খুঁজে বের করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। পরবর্তী শুনানিতে তদন্তকারী সংস্থা আর কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য আদালতে পেশ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা দেশ।





