তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রবল জল্পনা—বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে. আন্নামালাই কি এবার দল ছাড়ছেন? সম্প্রতি দিল্লি সফরে গিয়ে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পরেই এই জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। প্রাক্তন এই আইপিএস অফিসারের নতুন দল গঠনের সম্ভাবনা ঘিরে তামিল রাজনীতির করিডোরে চলছে ব্যাপক আলোচনা। জানা গেছে, খুব শীঘ্রই তিনি তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে স্পষ্ট বিবৃতি দেবেন।
২০২০ সালে কর্নাটক ক্যাডারের আইপিএস কর্মকর্তার চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে আসা আন্নামালাই অল্প সময়েই নিজের বলিষ্ঠ ভাবমূর্তির মাধ্যমে ‘সিংঘম’ হিসেবে পরিচিতি পান। ২০২১ সালে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তৃণমূল স্তরে সংগঠন মজবুত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু রেকর্ড কার্ড বলছে ভিন্ন কথা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে ২০২৪-এর লোকসভা—টানা দুটি নির্বাচনে পরাজিত হওয়া তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এমনকি দলের ভেতরেও তাঁর গুরুত্ব কমছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পাওয়া এবং রাজ্যসভার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্বের খবর চাউর হয়েছে।
আন্নামালাইয়ের এই পরিস্থিতির মধ্যেই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প এনেছেন অভিনেতা সি. জোসেফ বিজয়। তাঁর রাজনৈতিক দল ‘টিভিকে’ প্রথম নির্বাচনেই ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে ডিএমকে-এআইডিএমকে-র দীর্ঘ আধিপত্য ভেঙে চুরমার করেছে। বিজয়ের এই অভাবনীয় সাফল্য আন্নামালাইয়ের রাজনৈতিক গুরুত্বকে অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে। একদিকে দলের ভেতরে কোণঠাসা অবস্থা, অন্যদিকে বিজয়ের উত্থান—এই দুইয়ের চাপে আন্নামালাই কি নতুন কোনো পথে হাঁটবেন? আন্নামালাইয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে তামিল রাজনীতির আগামী দিনের চালচিত্র। আপাতত সকলের নজর দিল্লির দিকে।





