বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত রেজোলিউশনে বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তোলপাড়। এই বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে এবার সরাসরি আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বিস্ফোরক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “পুরো পার্টিটাই জালি। এদের কাছ থেকে আর ভালো কী আশা করা যায়! দলের মধ্যে এখন মুষল পর্ব শুরু হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি এই দলটার পতন হয়, বাংলার পক্ষে ততই মঙ্গল।”
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা এই বিশৃঙ্খলা নিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এক হাত নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি তৃণমূল সুপ্রিমোর উদ্দেশ্যে বলেন, “সবাইকে চুরি করতে শিখিয়েছেন তিনি। এখন তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে। ছোটবেলায় একটা গল্প পড়েছিলাম, এক রাখাল স্কুলে সবার খাতা-বই-পেন্সিল চুরি করত। যেদিন ধরা পড়ল, সেদিন মাসির কানে কথা বলার বাহানায় তিনি মাসির কান কামড়ে ছিঁড়ে দিয়েছিলেন। বলেছিল, মাসি তুমিই আমাকে চুরি করতে শিখিয়েছ। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটছে, এখন সেই মাসির কান কাটা বাকি আছে।”
উল্লেখ্য, মোট ১৩ জন তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করার অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, সিআইডি তদন্তে অন্তত তিনজন বিধায়ক স্বীকার করেছেন যে তাঁদের সই জাল করা হয়েছিল। তবে এই দাবিকে ঘিরেও ধোঁয়াশা রয়েছে। যে বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কুণাল ঘোষ এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই মামলার প্রেক্ষাপট। সোমবার নবান্নে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গত ৯ মে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার অধ্যক্ষকে একটি চিঠি দিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দেন। এরপর ১৮ মে বিধানসভার প্রধান সচিব অভিষেকের কাছে দলীয় বৈঠকের মিনিটস বা কার্যবিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ২০ মে সেই চিঠির জবাব আসে। এর পরেই ২৭ মে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন যে, ৬ মে-র দলীয় বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। তাঁরা কেবল বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য হাজিরা খাতায় সই করেছিলেন, যা পরে রেজোলিউশনে ব্যবহার করা হয়েছে।
বিধায়কদের এই অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষের নির্দেশে হেয়ার স্ট্রিট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রসচিবের নির্দেশে ও মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনে সিআইডি এই ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে। এখন সিআইডি তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী বেরিয়ে আসে, সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই ঘটনা যে রাজ্যের শাসক দলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।





