দলবিরোধী কাজ ও সই জালিয়াতি! ঋতব্রত-সন্দীপনকে বহিষ্কারের পর ‘গদ্দার’দের কড়া বার্তা তৃণমূলনেত্রীর

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন কার্যত ঝড়ের গতিতে পরিবর্তন আসছে। সোমবার দলবিরোধী এবং অনৈতিক কাজের অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এই সিদ্ধান্তের পরই দলের প্রাক্তন নেতার প্রতি চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভুল স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা সোমবার বিকেলে কালীঘাটের বাসভবন থেকে এক ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তৃণমূল সুপ্রিমোর কথায়, “ঋতব্রতকে টিকিট দেওয়া আমাদের বড় ভুল ছিল। ২০১৭ সালে সিপিএম তাঁকে বহিষ্কার করে ঠিকই করেছিল, অন্তত এই একটি ক্ষেত্রে আমি তাঁদের সাধুবাদ জানাই।” নেত্রীর আরও সংযোজন, “অন্য যোগ্য কর্মীদের টিকিট কেটে তাঁকে দুবার সংসদে পাঠানো হয়েছিল, আজ আমি তাঁদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি।”

কেন এই বহিষ্কার? বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত চিঠিতে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। এই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় এই বিষয়ে সরব হওয়ার পরই তৃণমূলের পক্ষ থেকে দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

‘ভয় পেয়ে গদ্দারি’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেন, যারা বিভিন্ন এজেন্সির ভয়ে বা প্রলোভনে দল ছাড়ছেন, তাঁরা আসলে ‘গদ্দার’। তিনি বলেন, “ভয় না পেলে হয়তো এক মাস জেলে থাকতে হতো, কিন্তু তারপর তো মুক্ত হওয়া যেত। মুহূর্তের দুর্বলতায় কারও কথায় সিদ্ধান্ত নেবেন না।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাকে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া অবস্থান ও প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া দলের অন্দরে কঠোর শৃঙ্খলা ফেরানোর এক বার্তা। তৃণমূল যে বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং বিধায়কদের ওপর আস্থা হারাচ্ছে, তা নেত্রীর এদিনের মন্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy