রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই কলকাতা পুরনিগমের বিল্ডিং ও কর বিভাগের একের পর এক নোটিশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান ও ফাইজ খানের পর এবার কলকাতা পুরনিগমের ‘স্ক্যানারে’ উঠে এল বেলেঘাটার এক প্রভাবশালী তৃণমূল কাউন্সিলরের নাম। তাঁর বিপুল সম্পত্তি এবং কর সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করেছে পুর কর্তৃপক্ষ।
পুরনিগমের তদন্তের কেন্দ্রে যা রয়েছে: পুরসভা সূত্রে খবর, ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে (মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, লালবাজার এবং স্থানীয় থানা) একের পর এক অভিযোগ জমা পড়েছিল। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুরনিগম। তদন্তে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে—
সম্পত্তির তালিকা: বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় ওই কাউন্সিলর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা একাধিক ফ্ল্যাট, অফিস ও রেস্তোরাঁ।
ব্যবহারগত অসঙ্গতি: আবাসিক হিসেবে অনুমতি নিয়ে সেখানে বাণিজ্যিক কাজকর্ম চালানো হচ্ছে কি না।
কর ও মিউটেশন: প্রতিটি সম্পত্তির সঠিক কর দেওয়া হচ্ছে কি না, মিউটেশন ও অ্যাসেসমেন্ট সংক্রান্ত নথি আইনসম্মত কি না।
আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পুরনিগমের সম্পত্তি কর মূল্যায়ন বিভাগ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে তথ্য সংগ্রহ করছে। সূত্রের খবর, শীঘ্রই ওই কাউন্সিলরকে নোটিশ পাঠানো হতে পারে। পুরনিগমের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, “শুধু ওই কাউন্সিলর নয়, তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পত্তির তালিকাও আমরা খতিয়ে দেখছি। যদি কোনো জায়গায় বেআইনি নির্মাণ বা জলা ভরাটের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে বিল্ডিং বিভাগের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক অস্বস্তি বেলেঘাটার এই কাউন্সিলরের নাম বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তে তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি। এরপরই তাঁর অনুগামীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অন্দরে সেই সময়কার কোন্দল ও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগই এখন তাঁর কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।





