রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোল ইন্ডিয়ার ‘অফার ফর সেল’ (ওএফএস) ঘিরে শেয়ার বাজারে তোলপাড়। সরকার তাদের ২% শেয়ার বাজারমূল্যের চেয়ে প্রায় ১১% কমে, অর্থাৎ ৪১২ টাকা ফ্লোর প্রাইসে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সুযোগটি বুধবার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হতেই প্রায় ১৯,০০০ কোটি টাকার বিপুল সাড়া মিলেছে। শুক্রবার থেকে খুচরা বা রিটেইল বিনিয়োগকারীদের জন্য এই ওএফএস-এর দরজা খুলছে।
বাজারে চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন, এখন কি এই রাষ্ট্রীয় সংস্থায় লগ্নি করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, কোল ইন্ডিয়ার ৫.৭০% উচ্চ ডিভিডেন্ড ইল্ড এবং শক্তিশালী ক্যাশ ফ্লো এটিকে বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দেশে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কোম্পানিটির ব্যবসাকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কোল ইন্ডিয়ার বাজার অংশীদারিত্ব বেশ শক্ত।
তবে ঝুকির দিকটি উপেক্ষা করার উপায় নেই। নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারের ফলে ভবিষ্যতে কয়লার চাহিদায় ভাটা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সরকারি নীতি ও পণ্যের দরের ওঠানামা শেয়ারের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে যারা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এবং স্থিতিশীল লভ্যাংশ খুঁজছেন, তাদের কাছে কোল ইন্ডিয়া একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হতে পারে। গত পাঁচ বছরে ২২% রিটার্ন দেওয়া এই স্টকটি নিয়ে দ্রুত লাভের আশা করা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
দাবিত্যাগ: এটি কেবলমাত্র তথ্যমূলক প্রতিবেদন, কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। যে কোনো আর্থিক সিদ্ধান্তের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।





