নদীয়ার রেলযাত্রীদের জন্য দারুণ খুশির খবর। খুব শীঘ্রই রানাঘাট-কল্যাণী এবং রানাঘাট-কৃষ্ণনগর মেন লাইনে রেল পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। এই রুটগুলোতে থার্ড লাইনের কাজ সম্পন্ন হলে, এখানে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস-সহ একাধিক প্রিমিয়াম ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করছে রেল।
বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সম্ভাবনা: সম্প্রতি রানাঘাট জংশনে নতুন জিআরপি (GRP) থানা ভবনের উদ্বোধনে এসে রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বিধায়ক পার্থ সারথী চট্টোপাধ্যায় রেলের এই নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। থার্ড লাইনের কাজ শেষ হলে রানাঘাট দিয়ে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো সেমি-হাইস্পিড ট্রেন চলাচলের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিধায়ক পার্থ সারথী চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তৃতীয় লাইনের কাজ শেষ হলেই এই রুটে প্রিমিয়াম ট্রেন পরিষেবার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
স্টেশন সম্প্রসারণ ও দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ: শুধু বন্দে ভারত নয়, রানাঘাট জংশনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে:
স্টপেজ বৃদ্ধি: বর্তমানে সাইরাং এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ রানাঘাটে নেই। তবে স্টেশন পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই এই ট্রেনটির স্টপেজ এবং অন্যান্য আরও দূরপাল্লার ট্রেনের সুবিধা রানাঘাট জংশনে পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিধায়ক।
প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি: বড় ট্রেন বা ২৪ কোচের ট্রেনগুলো যাতে রানাঘাটে অনায়াসে দাঁড়াতে পারে এবং যাত্রীদের ওঠানামায় কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর কাজ শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ? নদীয়া জেলার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য। রানাঘাট জংশন এমনিতেই ব্যস্ততম স্টেশনগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই স্টেশনটির পরিকাঠামো উন্নয়ন হলে শুধু রানাঘাট নয়, পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণনগর ও কল্যাণী রুটের লাখ লাখ যাত্রী উপকৃত হবেন। রেলের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীয়ার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও আরামদায়ক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।





