‘পালাচ্ছে’ অনুপ্রবেশকারীরা, হাকিমপুর সীমান্তে দেশে ফিরতে মরিয়া বাংলাদেশিদের লাইন

নবান্নের ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশিকা জারির পর থেকেই যেন নড়েচড়ে বসেছে রাজ্যের সীমান্ত এলাকা। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্তে বুধবারও চোখে পড়ল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। এদিন সকাল থেকেই দলে দলে মানুষকে ট্রলি, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে সীমান্তে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

কেন এই ফেরার হিড়িক? সূত্রের খবর, অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য রাজ্য সরকার জেলাভিত্তিক ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই অবৈধ বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে সন্দেহভাজনদের ৩০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান, তাদেরও সেখানে রাখা হবে। এই কড়া পদক্ষেপের বার্তা পেতেই ‘নিরাপদ’ আশ্রয়ে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে অনুপ্রবেশকারীরা।

সীমান্তের বর্তমান চিত্র হাকিমপুর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে গত মঙ্গলবার থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার বিএসএফ ও পুলিশ প্রশাসন প্রায় দুশোর বেশি এমন ব্যক্তির মুখোমুখি হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের তিনটি অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। বুধবার সকালেও একইভাবে ছাউনির নিচে বা রাস্তার ধারে প্লাস্টিক পেতে সীমান্ত পেরোনোর অপেক্ষায় দেখা যায় অনেককে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনমনে কৌতূহল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার সময়ও এমন ছবি দেখা গিয়েছিল, তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। রাজ্যের নতুন সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ বা কড়া অবস্থান সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বড় ধরনের চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। সীমান্তে এই ভিড় কি নিছকই ঘরে ফেরার তাগিদ, নাকি আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে দেশ ছাড়ার হিড়িক—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র কৌতূহল ও জল্পনা তুঙ্গে।

এখন প্রশাসনিক তৎপরতা ও এই অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy