মহারাষ্ট্রের লাতুরে চরম জনদুর্ভোগের এক করুণ ছবি প্রকাশ্যে এল। তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে একদিকে যখন মানুষ বাড়ির বাইরে বেরোতেই ভয় পাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই রান্নার গ্যাসের একটি সিলিন্ডারের জন্য শত শত মানুষকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মাথায় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। একটি গ্যাস এজেন্সির বাইরে এই বিশাল জনসমাগম কার্যত এক রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে শারীরিক অসুস্থতায় এক মহিলা গ্রাহক হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে অনলাইনে গ্যাস বুকিং করার পর ওটিপি (OTP) চলে আসছে ঠিকই, কিন্তু হাতে সিলিন্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে চরম টালবাহানা করছে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ গ্রাহকই শেষ পর্যন্ত খালি হাতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। কারো অভিযোগ, বুকিংয়ের একাধিক দিন পেরিয়ে গেলেও ডেলিভারি মিলছে না, আবার কারো দাবি, এজেন্সিতে গিয়েও মিলছে না সদুত্তর।
লাতুরের এই ভয়াবহ গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রবীণ নাগরিক থেকে শুরু করে মহিলারা—প্রত্যেকেই এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার। একদিকে আগুনের মতো চড়তে থাকা পারদ, আর অন্যদিকে রান্নার জ্বালানি পাওয়ার জন্য এই অমানবিক লড়াই। স্থানীয়দের অভিযোগ, এজেন্সির কর্মীরা ঠিকমতো পরিষেবা দিচ্ছেন না এবং লাইনের অব্যবস্থাপনা সামলানোর কোনো প্রচেষ্টাই কর্তৃপক্ষের তরফে দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে আশপাশের মানুষ ছুটে এলেও এজেন্সির ভেতর থেকে কোনো সন্তোষজনক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে দীর্ঘসময় ধরে রোদে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনের কাছে স্থানীয়দের কাতর আবেদন, অবিলম্বে এই গ্যাস এজেন্সির পরিষেবা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হোক এবং ডিজিটাল বুকিংয়ের পরেও কেন সিলিন্ডার পেতে গ্রাহকদের এই হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে, তার তদন্ত করা হোক।
লাতুরের এই সিলিন্ডার-সঙ্কট এখন শুধু একটি এজেন্সির সমস্যা নয়, এটি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তীব্র গরমে সিলিন্ডার না পাওয়ার এই অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে সাধারণ মানুষ কবে মুক্তি পাবে, সেই প্রশ্নই এখন সব মহলে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও জেলা প্রশাসন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।





