অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে নাম থাকবে তো? শুরু হলো তালিকা যাচাইয়ের কাজ, বাদ পড়তে পারেন কারা?

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখিয়েছে বর্তমান সরকার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্প শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হাতে সময় আর মাত্র কয়েক দিন। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ যেমন বাড়ছে, তেমনই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যারা বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। তবে নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি টাকা পৌঁছে দিতে সরকার তালিকা যাচাইয়ের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট নির্দেশ, রাজ্যের কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেন কোনোভাবেই মৃত ব্যক্তি বা অনুপ্রবেশকারীদের কাছে না পৌঁছায়।

এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে ২৫ মে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জেলা শাসকদের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তালিকা মনিটরিংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন অর্থসচিব প্রভাত মিশ্র এবং রাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সরকার এই তালিকা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ‘এসআইআর’ (SIR) তালিকা বা ভোটার তালিকার ডেটাকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—৫৮ লক্ষ এএসডিডি (ASDD) ডেটা, ৬ লক্ষ আনম্যাপড তালিকা এবং এসডিডি (SDD) তালিকার তথ্য। মূলত ভুয়ো, মৃত এবং অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দিয়ে একটি নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তবে ট্রাইব্যুনালে আপিল করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা শিথিল রাখা হতে পারে।

প্রশাসন এবার নতুন আবেদনকারীদের নাম যাচাইয়ে বিডিওদের সঙ্গে বিএলওদের (BLO) সরাসরি কাজে লাগাচ্ছে, কারণ তাঁরা স্থানীয় নাগরিকদের বিষয়ে ওয়াকিবহাল। নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর এর জন্য একটি বিশেষ পোর্টালও চালু করছে।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের যোগ্যতামান:

আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

মহিলার বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।

পরিবারের অন্য কোনো সদস্য কোনো সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সুবিধাভোগী হলে এই সুবিধা মিলবে না।

সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন না।

আবেদনের জন্য আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক।

সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প যে আরও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে, তা বলাই বাহুল্য। ১ জুন থেকে প্রকল্প শুরু হওয়ার খবরে বাংলার মহিলারা এক নতুন আশায় বুক বাঁধছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy