মা ও মেয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে তীব্র বিভেদ সৃষ্টি করেছে। ভাইরাল ক্লিপটিতে দেখা যায়, বাড়ির ভেতরেই মা-মেয়ের সম্পর্কের তিক্ততা চরমে পৌঁছেছে। এই ঘটনাটি কেন্দ্র করে সন্তান পালন, শিশুদের গোপনীয়তা এবং বাড়ির কাজকর্ম নিয়ে ইন্টারনেটে এক নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওটির শুরুতে দেখা যায়, মেয়েটির ভাই ক্যামেরা হাতে ঘরে ঢুকেই বোনকে প্রশ্ন করে, “কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে কী করছিস?” মেয়েটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার মা প্রচণ্ড রাগে ঘরে ঢোকেন এবং সরাসরি মেয়ের মাথায় সজোরে এক থাপ্পড় মারেন। এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চড় খাওয়া মাত্রই মেয়েটি প্রতিবাদ করে চিৎকার করে ওঠে, “আমি পড়ছিলাম। দেখো, আমি পড়ছিলাম।”
মায়ের অভিযোগ ছিল, তিনি দীর্ঘক্ষণ ধরে মেয়েকে ডাকছিলেন, কিন্তু ইয়ারফোন লাগানো থাকায় সে কোনো উত্তর দেয়নি। ভাই পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে উল্টো প্রশ্ন করে, “যদি তুমি পড়ছিলে, তাহলে ইয়ারফোন পরে ছিলে কেন?” মেয়েটি বিরক্তির সঙ্গে উত্তর দেয়, “আমি ইয়ারফোন পরেই পড়ছিলাম।”
বিতর্কটি এখানেই শেষ হয়নি। মা এরপর মেয়ের বিরুদ্ধে বাড়ির কাজে অবহেলার অভিযোগ তোলেন। রান্না না করা নিয়ে মা ক্ষোভ প্রকাশ করলে মেয়েটি সাফ জানিয়ে দেয়, “নিজের কাজ নিজে করো।” এই কথা শুনে মায়ের মেজাজ আরও বিগড়ে যায় এবং তিনি সেই চিরচেনা পুরনো কথাটি বলে ওঠেন, “শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তোর কী হবে?” মেয়ের পাল্টা জবাব ভিডিওটিকে ভাইরাল করে দেয়। মেয়েটি স্পষ্ট ভাষায় বলে, “শ্বশুরবাড়িতে আপনার যা হবে, আমারও তাই হবে।”
Shame on her mother and brother. They have no right to misbehave with her; she was just talking to her boyfriend and did nothing wrong. Also, the way Jeets are criticizing this girl needs to be studied separately. pic.twitter.com/dBoshWMmoJ
— Kruts (@Kritical_62) May 23, 2026
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। নেটিজেনদের একটি অংশ মনে করছেন, মায়ের সঙ্গে এমন রূঢ় আচরণ এবং অবাধ্যতা অত্যন্ত দুঃখজনক, যা একটি বড় বিপদ সংকেত। অন্যদিকে, যারা মেয়েটির পক্ষে রয়েছেন, তাদের দাবি, ভাইয়ের এভাবে ভিডিও ধারণ করা এবং সামান্য বিষয়ে ক্যামেরার সামনে গায়ে হাত তোলা অন্যায়। তাদের মতে, শিশুদের নিজস্ব গোপনীয়তা এবং আত্মসম্মান আছে। ক্যামেরা অন করে এই ধরনের ব্যক্তিগত অশান্তিকে জনসমক্ষে আনা পরিস্থিতিকে কেবল আরও জটিল করে তুলেছে। পারিবারিক সম্পর্কের এই তিক্ততার ছবি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।





