বিশ্ববাজারের অস্থিরতার আঁচ এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে। দেশজুড়ে একলাফে লিটার প্রতি ৩ টাকা করে বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। শুক্রবার সকাল থেকেই নতুন বর্ধিত মূল্যে জ্বালানি কিনতে গিয়ে রীতিমতো নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় মধ্যবিত্তের। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
কী বললেন দিলীপ ঘোষ? প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালেও ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “জ্বালানির দাম বাড়া আমাদের হাতে নেই। গত ৩ বছর ধরে বিশ্বে যুদ্ধ চলছে, একাধিক দেশ সংকটে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমাদের ওপর কোনও আঁচ আসতে দেননি। বিশ্বজুড়ে চলা এই বড় সংকটের থেকে তো আমরা আলাদা হতে পারি না। পরিস্থিতি বিচারে জ্বালানির দাম খুবই সামান্য বেড়েছে।” মোদীর ওপর আস্থা রেখে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ মানুষের বড় কোনও ক্ষতি হতে দেবে না।
কলকাতায় জ্বালানির বর্তমান চিত্র: মূল্যবৃদ্ধির পর কলকাতায় পেট্রোলের দাম ১০৫.৪৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে লিটারে প্রায় ১০৮.৭৪ টাকা। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম ৯২.০২ টাকা থেকে বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে লিটার প্রতি ৯৫.১৩ টাকার আশপাশে।
কেন এই আকাশছোঁয়া দাম? তেল সংস্থাগুলি স্পষ্টভাবে কিছু না জানালেও বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া দামের কারণেই লোকসান কমাতে দেশীয় সংস্থাগুলি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
বাজারদরে প্রভাবের আশঙ্কা: জ্বালানির দাম বাড়ার অর্থই হলো পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও শাকসবজির দামে। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, তেলের দাম বাড়ার ফলে এবার বাজার করতে গিয়েও হাতে ছ্যাঁকা লাগবে। মূল্যবৃদ্ধির এই জোড়া ফলায় আমজনতার জীবনযাত্রা কতটা কঠিন হয়, এখন সেটাই দেখার।





