শহর কলকাতায় ফের সক্রিয় প্রশাসনের বুলডোজার। উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে এবার বাংলাতেও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব নিতে দেখা গেল প্রশাসনকে। গত কয়েকদিন আগে তপসিয়া এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খাস গড়িয়ার বুকে চলল বুলডোজার। আদালতের কড়া নির্দেশে গড়িয়ার একটি এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সুউচ্চ ‘ক্লক টাওয়ার’ বা ঘড়ি মিনারটি সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দিল পুরসভা ও পুলিশ প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ সময় ধরে গড়িয়ার ওই জনবহুল এলাকায় সরকারি নিয়ম নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই বিশাল স্থাপত্যটি গড়ে তোলা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং এটি জনসাধারণের চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি করছিল। বিষয়টি নিয়ে মামলা আদালত পর্যন্ত গড়ালে বিচারক অত্যন্ত কড়া অবস্থান গ্রহণ করেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, কোনোভাবেই বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। সেই নির্দেশ কার্যকরী করতেই আজ সকালে বিশাল পুলিশবাহিনী এবং বুলডোজার নিয়ে এলাকায় পৌঁছান প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
অভিযান চলাকালীন এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কৌতুহলী মানুষের ভিড় সামলাতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। বুলডোজারের বিশাল হাতুড়ির ঘায়ে নিমিষের মধ্যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ঘড়ি মিনারটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, যত্রতত্র বেআইনি নির্মাণের ফলে শহরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সাধারণ নিকাশি ব্যবস্থা—সবই সংকটে পড়ছে।
প্রশাসনের এই ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ দেখে অনেকেই মনে করছেন, এবার শহরজুড়ে থাকা সমস্ত অবৈধ প্রোমোটিং ও নির্মাণের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে নামতে চলেছে সরকার। বিশেষ করে তপসিয়া এবং গড়িয়ার এই পরপর দুটি ঘটনা অবৈধ নির্মাণকারীদের কাছে একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। প্রশাসন সূত্রের খবর, আগামী কয়েকদিনে শহরের আরও বেশ কিছু চিহ্নিত বেআইনি নির্মাণের তালিকায় বুলডোজার চলতে পারে। আজকের এই ধ্বংসলীলার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।





