বাংলার তপ্ত রাজনীতিতে এবার আইনি লড়াইয়ের দামামা। বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দফায় দফায় অশান্তি ও হিংসার খবর আসছিল। এবার সেই ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’র অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার দলের পক্ষ থেকে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবারই এই মামলার ভাগ্য নির্ধারণ হবে।
আদালতে তৃণমূলের সওয়াল তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র তথা উত্তরপাড়া কেন্দ্রের ঘাসফুল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলাটি করেন। তাঁর অভিযোগ, ৪ মের পর থেকে রাজ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ। মামলার বয়ানে দাবি করা হয়েছে:
রাজ্যজুড়ে প্রায় ২ হাজার তৃণমূল সমর্থক আক্রান্ত হয়েছেন।
অন্তত ৩৬৫টি দলীয় কার্যালয় বা পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রশাসন এই তাণ্ডব রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
মামলাকারীর আর্জি, আদালত অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করুক এবং কোনও নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে এই হিংসার তদন্ত করানো হোক।
বিস্ফোরক অভিষেক: ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিখোঁজ!’ ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে মৃত কর্মীদের নাম উল্লেখ করে তিনি সরাসরি কেন্দ্র ও আদালতকে নিশানা করেছেন। অভিষেক লিখেছেন, “মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পোলবা-দাদপুরের সোমনাথ আচার্য এবং চাকদহের তপন সিকদার বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। বিজেপি জমানায় তৃণমূল করা কি অপরাধ?”
এখানেই থামেননি তিনি। সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, “পুলিশ নিষ্ক্রিয়, আদালত নীরব দর্শক, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরের ছক কষছেন আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিখোঁজ! এই সুযোগে বিজেপি সাধারণ মানুষের ওপর প্রতিহিংসার রাজনীতি চালাচ্ছে।”
পাল্টা তোপ বিজেপির: ‘২০২১ কি ভুলে গেলেন?’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। দলের মুখপাত্র বিমলশঙ্কর নন্দ স্পষ্ট জানান, “আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই বলেছেন, ৪ মে দুপুরের পর যারা রাতারাতি বিজেপি সেজে সন্ত্রাস করছে, তারা আসলে পুরনো তৃণমূলী। বিজেপি হিংসার সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে না।”
২০২১ সালের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বিমলশঙ্করের খোঁচা, “সেবার ফলপ্রকাশের পর বিজেপি কর্মীদের খুন ও মহিলাদের ওপর যে নৃশংস অত্যাচার হয়েছিল, তখন অভিষেক বাবু কোথায় ছিলেন? বিজেপি নিজের কর্মীদের ওপর যেমন নজর রাখছে, তেমনই অপরাধীদের কোনও রেয়াত করা হবে না।”
বৃহস্পতিবারের অপেক্ষায় বাংলা প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি শুনবেন। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পর এই প্রথম বড় কোনও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে। আদালত কি কোনও কড়া নির্দেশ দেবে? না কি পুলিশকেই সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেওয়া হবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





