ভারতে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলো প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা লোকসান করছে। বর্তমানে অনাদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে ডিজেলের দাম বাড়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলে ৫ টাকা দাম বাড়লে পরিবহন সংস্থাগুলোকে তাদের মুনাফা টিকিয়ে রাখতে ভাড়ার হার ২.৫% থেকে ২.৮% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে হবে। ট্রাক মালিকদের মতে, তাঁদের মোট খরচের ৬০ শতাংশই যায় জ্বালানির পেছনে। বর্তমান বাজারে ট্রাকের সংখ্যা বেশি হলেও চাহিদা কম, ফলে বর্ধিত খরচের বড় অংশই মালিকদের পকেট থেকে যাচ্ছে।
এই সংকটের প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে সরাসরি টান পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে। শাকসবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী—সবকিছুর দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ওপর টোল ট্যাক্স, টায়ার এবং রক্ষণাবেক্ষণের ক্রমবর্ধমান খরচ ছোট ট্রাক মালিকদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির এই মেঘ অদূর ভবিষ্যতে সাধারণ মধ্যবিত্তের চিন্তা আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





