ট্রাম্প-জিনপিং রুদ্ধদ্বার বৈঠক! ফের কি বন্ধু হচ্ছে দুই চিরশত্রু? দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ!

১৯৭২ সালে রিচার্ড নিক্সন ও মাও সে তুং-এর সেই ঐতিহাসিক করমর্দন বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে বেইজিংয়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং যেন সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি করছেন। তবে এবারের লড়াই মতাদর্শের নয়, বরং এআই (AI), সেমিকন্ডাক্টর এবং বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ দখলের।

বেইজিংয়ে পা রাখতেই জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ বলে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে জিনপিংয়ের গলায় শোনা গেছে সহযোগিতার সুর। কিন্তু এই বন্ধুত্বের আড়ালে রয়েছে কঠিন হিসেবনিকেশ। আমেরিকার নজর এখন ‘৫-বি’ (বোয়িং, বিফ, বিনস, বোর্ড অফ ট্রেড ও বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্ট)-এর দিকে। অন্যদিকে চীন চাইছে ‘৩-টি’ (তাইওয়ান, ট্যারিফ ও টেকনোলজি) ইস্যুতে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান থাকলেও পর্দার আড়ালে তিনি চীনের সাহায্যপ্রার্থী। এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন নতুন রণক্ষেত্র। চীনের এআই স্টার্টআপ ‘ম্যানাস’ ক্রয়ে বাধা দিয়ে বেইজিং বুঝিয়ে দিয়েছে তারা মেধাসম্পদ রক্ষায় আপসহীন।

এই মহামিলন ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গত দুই দশক ধরে আমেরিকা ভারতকে চীনের বিরুদ্ধে ‘কাউন্টার-ব্যালেন্স’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু ট্রাম্প যদি চীনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’র বদলে ‘অংশীদার’ হিসেবে দেখতে শুরু করেন, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় দিল্লির কৌশলগত গুরুত্ব ধাক্কা খেতে পারে। ভারতের মাল্টি-অলাইনমেন্ট নীতি এখন অগ্নিপরীক্ষার মুখে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy