. “দলের ভেতরেই গদ্দার!” হারের পরেই বিস্ফোরণ কাজল শেখের, বীরভূমের কোন ‘শীর্ষ’ নেতার দিকে আঙুল?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূম জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের আশানুরূপ ফল না হওয়ায় এবার দলের অন্দরেই গৃহযুদ্ধ শুরু হলো। জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৫টিতে জয় পেলেও ৬টি আসনে পরাজয় হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। আর এই পরাজয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে খোদ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই ‘গদ্দারি’র অভিযোগ তুলে বোমা ফাটালেন বীরভূম জেলা পরিষদের মেন্টর তথা দাপুটে নেতা কাজল শেখ।

“দলের মধ্যেই গদ্দার ঢুকে আছে”

বৃহস্পতিবার বীরভূমে নির্বাচনী ফলাফল পরবর্তী এক পর্যালোচনায় কাজল শেখ অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি বলেন, “দলের মধ্যে গদ্দার ঢুকে আছে, সেই জন্যই পশ্চিমবাংলায় তৃণমূলের এই পরাজয়। বীরভূম জেলায় হারের নেপথ্যেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জড়িত রয়েছে। আমি এখন কারও নাম নেব না, তবে তাঁদের আমরা চিহ্নিত করেছি।” কাজল শেখ আরও জানান, এই ‘গদ্দার’দের তালিকা তিনি দ্রুত রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠাবেন।

সুর চড়ালেন হাসনের বিধায়কও

কাজল শেখের সুরেই সুর মিলিয়েছেন হাসনের তৃণমূল বিধায়ক। জেলা নেতৃত্বের একাংশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনিও দাবি করেন যে, বীরভূমে দলের ভরাডুবির পেছনে জেলার ‘শীর্ষ’ সারির নেতাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। দলের অন্দরের এই অন্তর্কলহ প্রকাশ্যে আসতেই অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব।

পরাজয়ের ময়নাতদন্ত ও আগামী পদক্ষেপ

বীরভূম জেলায় তৃণমূলের এই ফলাফল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছেও বিস্ময়কর। অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে জেলায় দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই দড়ি টানাটানি চলছিল। ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে, বহু জায়গাতেই তৃণমূল নিজেদের গড় রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। কাজল শেখের মতে, কিছু নেতা দলের সাথে বেইমানি না করলে ফলাফলের ছবিটা অন্যরকম হতো।

রাজ্য নেতৃত্ব এই অভিযোগের ভিত্তিতে বীরভূমের জেলা সংগঠনে কোনও বড় রদবদল করে কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে কাজল শেখের এই ‘গদ্দার’ তত্ত্বে যে জেলার রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy