মাসের ওই কয়েকটা দিন মানেই অনেকের কাছে বিভীষিকা। তলপেটে অসহ্য মোচড়, কোমরে ব্যথা আর শারীরিক অস্বস্তিতে দৈনন্দিন জীবন থমকে যায়। পেইনকিলার খেয়ে সাময়িক আরাম মিললেও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন, ওষুধের আলমারিতে নয়, বরং আপনার প্রতিদিনের খাবার থালাতেই লুকিয়ে আছে ব্যথাহীন মাসিকের গোপন চাবিকাঠি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পুষ্টির অভাব পিরিয়ডের যন্ত্রণাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আর ডায়েটে নজর দিলেই এই কঠিন দিনগুলো হয়ে উঠতে পারে অনেক সহজ।
ম্যাজিকের মতো কাজ করে ম্যাগনেসিয়াম
মাসিকের সময় জরায়ুর পেশি সংকুচিত হওয়ার ফলে ব্যথা অনুভূত হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, ডার্ক চকোলেট, পালং শাক এবং কুমড়োর বীজের মতো খাবারে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এই খনিজ উপাদানটি পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে পেটে ক্র্যাম্প বা মোচড় দেওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের কামাল
শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অত্যন্ত কার্যকর। সামুদ্রিক মাছ, আখরোট এবং তিসির বীজ পিরিয়ডের সময় হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খান, তাঁদের পিরিয়ড চলাকালীন ব্যথার তীব্রতা অন্যদের তুলনায় কম হয়।
আদা ও জিরে চা: ঘরোয়া মহৌষধ
ব্যথা কমাতে আদা বা জিরের জল প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। আদায় থাকা ‘জিনজেরল’ উপাদান ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। পিরিয়ড শুরু হওয়ার দু-তিন দিন আগে থেকেই গরম জলে আদা বা জিরে ফুটিয়ে সেই চা পান করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং অস্বস্তি দূর হয়।
জলশূন্যতা এড়িয়ে চলুন
পিরিয়ডের সময় শরীরে জলের অভাব হলে পেটে গ্যাস বা ব্লটিং হতে পারে, যা ব্যথার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই এই সময় শুধু জল নয়, ডাবের জল, ফলের রস বা শশার মতো জলীয় খাবার বেশি করে খাওয়া জরুরি। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে।
কী এড়িয়ে চলবেন?
ব্যথাহীন মাসিক পেতে ডায়েট থেকে অতিরিক্ত চিনি, লবণ এবং ক্যাফিন (অতিরিক্ত চা-কপি) ছাঁটাই করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত লবণ শরীরে জল জমিয়ে রাখে, যা পেট ভারি হওয়া বা ক্র্যাম্পের অন্যতম কারণ।
পরিশেষে, সুষম খাদ্যাভ্যাস কেবল সুস্থ শরীর নয়, বরং পিরিয়ড সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা কমাতেও সাহায্য করে। তাই পেইনকিলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে সুস্থ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।





