বর্তমান যুগের ইঁদুর দৌড়ের জীবনে ‘মানসিক চাপ’ বা ‘স্ট্রেস’ আমাদের শরীরের এক অদৃশ্য শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিস থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন—সবখানেই রয়েছে প্রত্যাশার চাপ আর না পাওয়ার হাহাকার। অনেকেই এই চাপ সহ্য করতে না পেরে অবসাদ বা ডিপ্রেশনে তলিয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কেবল মনকে নয়, বরং হার্ট, লিভার এবং মস্তিষ্ককেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে ভয় পাবেন না, মনোবিজ্ঞানীরা এমন একটি সহজ ও বৈজ্ঞানিক উপায়ের কথা বলছেন, যা করলে মাত্র কয়েক মিনিটে আপনার মন শান্ত হয়ে যাবে।
এই ঘরোয়া উপায়ের নাম হলো ‘ডিপ ব্রিদিং’ বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম। শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি অত্যন্ত জোরালো। যখন আমরা মানসিক চাপে থাকি, তখন আমাদের শরীরের ‘কর্টিসোল’ নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়। গভীর শ্বাস নেওয়ার সময় যখন আমরা পেট ফুলিয়ে বাতাস ভেতরে নিই এবং খুব ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে বের করি, তখন শরীরের ‘প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি মস্তিষ্ককে সংকেত পাঠায় যে শরীর এখন নিরাপদ, যার ফলে কর্টিসোলের মাত্রা কমতে শুরু করে এবং মন নিমেষেই শান্ত হয়ে যায়।
কীভাবে করবেন এই বিশেষ প্রক্রিয়া?
প্রথমে একটি নিরিবিলি জায়গায় সোজা হয়ে বসুন। চোখ বন্ধ করে নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিন ৫ সেকেন্ড ধরে। মনে মনে ৫ পর্যন্ত গুনুন এবং ফুসফুস পূর্ণ করুন। এরপর সেই শ্বাসটি ৩ সেকেন্ড আটকে রাখুন। এবার অত্যন্ত ধীরগতিতে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন ৫ থেকে ৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে। এই পদ্ধতিটি ৫-১০ বার পুনরাবৃত্তি করুন। আপনি নিজেই অনুভব করবেন যে শরীরের পেশীগুলো শিথিল হচ্ছে এবং মাথার ভেতর জমাট বাঁধা দুশ্চিন্তার মেঘগুলো সরে যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি চিকিৎসকরা আরও কিছু ছোট ছোট অভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন। যেমন—অতিরিক্ত কফি বা চা খাওয়া কমানো, নিয়মিত অন্তত ২০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা এবং পছন্দের গান শোনা। সবশেষে মনে রাখবেন, মনের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার অধিকার। নিজেকে সময় দিন, নিজের প্রিয় শখগুলোর চর্চা করুন। মানসিক চাপ মুক্ত এক নতুন সকালের দিকে আজই বাড়িয়ে দিন পা।





