“এবার সীমানায় কাঁটাতার নয়, থাকবে লোহার প্রাচীর!”— অনুপ্রবেশ নিয়ে শাহের চরম হুঁশিয়ারি, বাংলার জন্য কী পরিকল্পনা দিল্লির?

বাংলায় সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই ভোলবদল হতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের। শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যু নিয়ে রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার আর শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাংলার সীমানা নিয়ে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

সীমানা নিয়ে শাহের কড়া বার্তা এদিন কলকাতায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলায় অনুপ্রবেশের দিন এবার শেষ। তিনি বলেন, “এতদিন ভোটব্যাংকের রাজনীতির জন্য বাংলার সীমানা উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু এবার থেকে পশ্চিমবাংলার সীমানা এমনভাবে সুরক্ষিত করা হবে যে, একটা পাখিও বিনা অনুমতিতে গলতে পারবে না।” শাহের এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে, অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবার সরাসরি ময়দানে নামছে।

শুভেন্দুর কাঁধে গুরুদায়িত্ব শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ যে এই অনুপ্রবেশ দমন, তা এদিন শাহের কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জানান, শুভেন্দু মাটির মানুষ এবং সীমান্ত এলাকার ভৌগোলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর সম্যক জ্ঞান রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য এবার একযোগে কাজ করে বাংলার সীমান্তকে দুর্ভেদ্য করে তুলবে। ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রথম কাজই হবে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা।

কী হতে চলেছে নতুন পদক্ষেপ? সূত্রের খবর, বাংলার সীমান্ত এলাকায় স্মার্ট ফেন্সিং, হাই-টেক ড্রোন নজরদারি এবং বিএসএফ-এর (BSF) ক্ষমতা আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে শাহের মন্ত্রক। শাহ ইঙ্গিত দিয়েছেন, সীমানা সংলগ্ন জেলাগুলোতে এবার থেকে পরিচয়পত্র যাচাই করার প্রক্রিয়া আরও কঠোর হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর শপথ নেওয়ার আগেই শাহের এই বার্তা আসলে অনুপ্রবেশকারীদের এবং তাঁদের মদতদাতাদের প্রতি এক চরম হুঁশিয়ারি।

ওপার বাংলায় আতঙ্ক? শাহের এই কড়া বার্তার পর সীমান্ত পেরিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তেমনই ওপার বাংলার প্রশাসনিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অন্যদিকে, বাংলার সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন, সীমান্ত সুরক্ষিত হলে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।

শুভেন্দু অধিকারীর রাজ্যাভিষেকের পর অমিত শাহের এই প্রথম বড় ঘোষণা বাংলার রাজনীতিতে কোন নতুন মেরুকরণ তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য প্রতিটি মুহূর্তের ‘ব্রেকিং’ আপডেট নিয়ে আমরা থাকছি লাইভ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy